Skip to main content

একজন কর্মবীর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছিদ্দিকুর রহমান মহোদয়

 


দুই হাজার  ষোলোর মার্চের কথা।  শীতের দাপট কমে গেছে। তবু সকালে কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে সবুজ মাঠ,গাছগাছালি ও গ্রামীণ প্রান্তর। আমি  জয়েন করেছি আউলিয়াবাদ কমলা গোসাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।আগে আমি দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছিলাম।  

 বর্তমান স্কুলের প্রধান শিক্ষক রইছ উদ্দীন স্যার একদিন সকালে এসে বললেন, নতুন টিইও স্যার এসেছেন। ইয়াং ও চৌকস।আজ মনতলা সপ্রাবিতে মিটিং আছে । নতুন টিইও স্যার বক্তব্য রাখবেন। পরের দিন প্রধান শিক্ষক মহোদয় স্কুলে এসে টিইও স্যার সম্পর্কে  আমাদের কাছে অনেক প্রশংসা তুলে ধরলেন। স্কুল আরো সজীব ও প্রাণবন্ত করার পদক্ষেপগুলো আমাদেরকে শুনালেন। আমার মনে টিইও স্যারকে দেখার একটা তাড়না অনুভব হতে লাগলো। কিন্তু সহসা কোনো দরকার না থাকায় শিক্ষা অফিসে যাওয়া হচ্ছিল না। আমার বদলির বিষয়টি  ইংলিশ ইন অ্যাকশনের সমীরণ গ্রেগরি স্যারকে জানানো হয়নি। জানানো প্রয়োজন।  কারণ দেবীপুর সপ্রাবি থেকে  আউলিয়াবাদ কমলা গোসাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির প্রেক্ষিতে  ইংলিশ ইন অ্যাকশনের কাছে  অডিও ভিডিও ম্যাটেরিয়্যালস চেয়ে দরখাস্ত করতে হবে। তাই তা প্রোপার চ্যানেলে পাঠানোর জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের কাছে যেতে হবে।৷ 


আবেদন লিখে টাইপ করতে গিয়ে দেখি বিদ্যুৎ নাই। কম্পিউটার অপারেটর জানাল, মাধবপুর উপজেলার কোথাও বিদ্যুৎ নাই। কারণ আগের রাতে প্রচন্ড ঝড়ে অনেক ক্ষয়ক্ষতির কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পরেছে। আমি হাতে লেখা দরখাস্ত নিয়েই হাজির হই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয়ের দপ্তরে। তখনই  মহোদয়ের সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ। হাতের লেখা দরখাস্ত হওয়ায় আমার বুকটা কাঁপছিল এজন্য যে, স্যার আমাকে কোনো কিছু বলেন কিনা।  কিন্তু স্যার আমার হাতের লেখা দরখাস্ত রাখলেন এবং  আমাকে চলে যেতে বললেন। তিনি জানালেন যে, তিনি নিজে দরখাস্তটি ফরওয়ার্ড করে ইংলিশ ইন অ্যাকশনের সিলেট অফিসে  পাঠাবেন।  আমি কিছুটা স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। কারণ আগে যতবার কোনো আবেদন ফরওয়ার্ড করা হয়েছে স্বাক্ষরিত হওয়ার পর নিজ দায়িত্বে নিয়ে গেছি।  জীবনে এই প্রথম একটা ভিন্ন ধরনের কাজ ঘটতে যাচ্ছে । আমি কথা না বাড়িয়ে চলে এলাম। তিন দিন পর খবর নিয়ে জানলাম আমার দরখাস্ত পৌছেছে। লাঞ্চ খেতে খেতে সহকর্মীদের বললাম, মাধবপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে এবং এখন বাস্তবে তাই হচ্ছে।

Comments

সাম্প্রতিক খবর

'রুম টু রীড ' এর ' শিক্ষিত শিশু বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা'

  'রুম টু রীড ' এর ' শিক্ষিত শিশু বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা' 'রুম টু রীড ' একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা যা ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন  থেকে সংস্থাটি শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়ন এবং পাঠ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে স্বাক্ষরতা কর্মসূচি এবং মেয়ে শিশুদের শিক্ষা সহায়তা নিয়ে এ সংস্থাটি কাজ করছে। বর্তমানে বিশ্বের ২৯টি দেশে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। সংস্থাটি সেসব দেশের মাতৃভাষার স্বাধীন -সাবলীল পাঠক তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।  ২০০৯ সালে 'রুম টু রীড '  বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। এটি বাংলা ভাষায় শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো - বিদ্যালয় ভিত্তিক পাঠাগার স্থাপন ও বইপড়া কর্মসূচি।  শিশুরা নিজের মাতৃভাষায় যাতে পঠন দক্ষতা অর্জন করতে পারে সে লক্ষ্যে 'রুম টু রীড ' ছাপা সমৃদ্ধ শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করছে। পাঠাগার কেন্দ্রিক এ ছাপা সমৃদ্ধ শিখন পরিবেশ দক্ষ পাঠক তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এতে নবীন -প্রবীণ লেখকদের বিভিন্ন গল্...