বিদায়! বেদনা বিধূর একটি শব্দ। চিরবিদায় ও কর্ম থেকে বিদায় উভয়ই খুব কষ্টকর। আর তা যদি হয় কোনো একজন আপনজনের বেলায় তা আরো কষ্টের ব্যাপার। কিছু মানুষ ক্ষণিকের পরিচয়ে আপন মহিমায় স্থান করে নেন হৃদয়ের গহীনে। কাছাকাছি অবস্থান না করলেও অনেক দূরে থেকেই মনে বিরাজ করেন ওই প্রিয় মানুষগুলো। তাঁদেরকে কখনো ভুলা যায়না।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর সহকর্মীদের মুখে যে নামটি প্রায়ই আলোচনার টেবিলে উঠতো সে নামটি হলো সুজিত বাবু-আমাদের সকলের প্রিয় সুজিত দেব রায় স্যার। আমার সাথে স্যারের ব্যক্তিগত পরিচয় ছিলনা। তবে আমি তাঁকে চিনতাম। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে আমি তাঁকে দেখেছি। কথা হয়নি। অত্যন্ত পরিপাটি ও চৌকস। গুছিয়ে কথা বলেন।শুদ্ধস্বর তাঁর। তবে তখনো আলাপ চারিতা হয়নি।
আমার চাকুরির প্রায় নয় বছর পরে ২০১৪ সালে ইংলিশ ইন অ্যাকশনের একটি প্রোগ্রামে তাঁর সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়। কথা হয়। বিভিন্ন বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা হয়। দিনব্যপী প্রশিক্ষণে আমি তাঁকে সদা মনোযোগী ও তৎপর দেখতে পাই। যে মতামত তিনি তুলে ধরতেন তাতে থাকতো দারুণ সব যুক্তি। কোনো এক্টিভিটিকেই তিনি গভীর মনোনিবেশ ব্যতীত অতিবাহিত করেন নি। আমি সেশন চালাতে তাঁকে অনুরোধ করলে তিনি তাতে সম্মত হন এবং অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে তা পরিচালনা করেন। আমি তাঁর উদারতা ও কর্তব্য নিষ্ঠায় মুগ্ধ হই। তিনি জাতীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তাঁর প্রতিটি কর্মে আমি শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিফলন হতে দেখেছি। এ মহান শিক্ষককে আমি সালাম জানাই।
গত ২৯ তারিখে কর্মজীবন তথা শিক্ষকতা থেকে তিনি অবসরে গিয়েছেন। তাঁকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্রছাত্রী ও এলাকার লোকজন। যারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সুজিত স্যারকে আমরা কেউই বিদায় দেইনি বরং রেখেছি হৃদয়ের গহীনে। আমৃত্যু তাঁর কথা আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করবো।

Comments
Post a Comment