Skip to main content

বিদ্যালয়ে শিশুদের নিরাপত্তা


 

আমরা জানি শিশু আগামী পৃথিবীর কর্ণধার। তাকে ঘিরেই আমাদের যত স্বপ্ন ও আশা। আমরা যারা শিশুর পিতামাতা বা অভিভাবক আছি নিজেদের চেয়েও শিশুকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি।সে ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকি।তার সাফল্যে আমরা সাফল্য লাভ করি ও আনন্দিত হই।নিজের শরীরে রোগ বালাই হলে তাতে ধৈর্য ধারণ করতে পারি।কিন্তু সন্তানের রোগ বালাই হলে তার চিকিৎসার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠি।

নিজের সন্তানকে প্রতিবেশীদের কেউ কটু কথা বললে খুবই ব্যথিত হই আমরা। কারণ আমরা নিজের সন্তানকে এমনভাবে ভালোবাসি যে, কেউ তাকে অপমান করলে নিজেই অপমানবোধ করি।নিজের সন্তানকে কেউ মারধর করলে যেকোনো মূল্যে এর বিচার করার জন্য উঠে পড়ে লাগি।শিশু আঘাত পেলে যতটা কষ্ট অনুভব করি, নিজে আঘাত পেলেও ততটা কষ্ট অনুভব করিনা। 

আমরা যেমন শিক্ষক হিসেবে নিজের সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে নিরাপত্তা কামনা করি তেমনি অন্যরাও তাদের সন্তানদেরকে স্কুলে পাঠিয়ে নিরাপত্তা কামনা করে। এটাই স্বাভাবিক। 

শিশুর সন্তুষ্টির জন্য আমরা অনেক ত্যাগ করি । কেউই চাইনা আমার সন্তান কোথাও অপমান বা নির্যাতনের শিকার হোক। তেমনি  শিক্ষক হিসেবে আমাদের কাছে  যারা তাদের সন্তানকে পাঠান তারাও তাই কামনা করে। 

সকল অভিভাবকেরাই চায় তাদের সন্তানদেরকে শিক্ষকরা ভালবাসুক। তারা হাসুক, খেলুক।আনন্দ চিত্তে পড়াশোনায় অংশগ্রহণ করুক। 


অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে তাদের   সন্তানদের সাথে কী ব্যবহার করা  হয়েছে তা অবগত হয়ে থাকেন। যদি কোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ শিশুদের সাথে ভালো ব্যবহার করেন তাহলে এ বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের শ্রদ্ধা ও আস্থা বেড়ে যায়। তারা বিদ্যালয়ের উন্নয়নে টাকা খরচ করতেও কার্পণ্য করেননা।অন্য অভিভাবকদের কাছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশংসা করে থাকেন। এতে এলাকায় এ বিদ্যালয়ের সুনাম বেড়ে যায় এবং ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। 

শিশু ও অভিভাবকদের প্রতি কোনো রুঢ় আচরণ হলে বিদ্যালয়ের প্রতি অনীহা তৈরি হয় এবং আস্থা কমে যায়।তখন অভিভাবকবৃন্দ বিদ্যালয়ের প্রতি নেতিবাচক মন্তব্য শুরু করে দেন। ফলে সমগ্র এলাকাতে বিদ্যালয়ের দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ে। এতে  এলাকার অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে শিশুদের ভর্তি করতে চাননা। ফলে ক্রমান্বয়ে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা কমে যায়।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিদ্যালয়ের  শিক্ষকদের আচরণ ভালো না হলে ঐ বিদ্যালয়টি তার গতি হারায় এবং সকল কার্যক্রমের ধারা ধীরে ধীরে শিথিল হতে থাকে। স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হলে শিক্ষকবৃন্দের সুন্দর আচরণের কোনো বিকল্প নেই।

Comments

সাম্প্রতিক খবর

'রুম টু রীড ' এর ' শিক্ষিত শিশু বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা'

  'রুম টু রীড ' এর ' শিক্ষিত শিশু বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা' 'রুম টু রীড ' একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা যা ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন  থেকে সংস্থাটি শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়ন এবং পাঠ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে স্বাক্ষরতা কর্মসূচি এবং মেয়ে শিশুদের শিক্ষা সহায়তা নিয়ে এ সংস্থাটি কাজ করছে। বর্তমানে বিশ্বের ২৯টি দেশে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। সংস্থাটি সেসব দেশের মাতৃভাষার স্বাধীন -সাবলীল পাঠক তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।  ২০০৯ সালে 'রুম টু রীড '  বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। এটি বাংলা ভাষায় শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো - বিদ্যালয় ভিত্তিক পাঠাগার স্থাপন ও বইপড়া কর্মসূচি।  শিশুরা নিজের মাতৃভাষায় যাতে পঠন দক্ষতা অর্জন করতে পারে সে লক্ষ্যে 'রুম টু রীড ' ছাপা সমৃদ্ধ শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করছে। পাঠাগার কেন্দ্রিক এ ছাপা সমৃদ্ধ শিখন পরিবেশ দক্ষ পাঠক তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এতে নবীন -প্রবীণ লেখকদের বিভিন্ন গল্...