আপনি কি একজন শিক্ষক? আপনাকে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যালয়ে থাকতে হয়। একটি দীর্ঘ সময় আপনাকে বিদ্যালয়ে শিখন শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। আপনার ভাগে দৈনিক অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি বিষয়ে পাঠদানের দায়িত্ব থাকতে পারে । তাছাড়া কোনো কলিগ ছুটিতে থাকলে তাঁর বিষয়টিও আপনাকে দেখতে হয়। আবার বিদ্যালয়ের সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীও পরিচালনার প্রয়োজন রয়েছে। আছে বিভিন্ন তথ্যাদি উপস্থাপন সংক্রান্ত কাজ। এতসব বিষয় কুলিয়ে উঠতে গিয়ে আপনি হয়তোবা হাঁপিয়ে উঠছেন। কিন্তু কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারলে আপনি বিদ্যালয়ে সার্বক্ষণিক কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন। আজ এরকম কিছু কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি।
ক) কাজকে ভালোবাসুন;
আপনি আপনার শিক্ষকতা পেশাকে মনে প্রাণে গ্রহণ করুন। আপনি হয়তোবা আশা করেছিলেন ক্লাস ওয়ান অফিসার হবেন। কিন্তু ভাগ্যক্রমে শিক্ষকতায় এসে গেছেন। প্রকৃতপক্ষে আপনি একজন ভাগ্যবান। এ মহৎ কাজের জন্য সৃষ্টিকর্তা আপনাকে নির্ধারণ করে রেখেছেন। তাই নিজের অতীত প্রত্যাশাকে বাদ দিয়ে এখন আপনি যা হয়েছেন তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে মনোনিবেশ করুন।
খ) শিশুকে ভালোবাসুনঃ
আপনি যাদেরকে নিয়ে কাজ করছেন তাদেরকে ভালবাসুন। তাদের উন্নতির মূলচাবিকাঠি আপনার হাতে। আপনি তাদেরকে ভালোবাসলে তারা একদিন আপনাকে প্রতিদান দিবেই। আপনার কাজ আনন্দময় করতে হলে এবং পাঠদানের ক্লান্তি দূরীকরণের ক্ষেত্রে এ ভালোবাসা আপনাকে অনেক দূর এগিয়ে নেবে।
গ) কলিগদের সাথে সুসম্পর্কঃ
আপনি কলিগদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। তবে সে জন্য একত্রে বসে গল্পগুজব করা আপনার বিপদ ডেকে আনবে। কারণ গল্পগুজবের পুরো অংশই জুড়ে থাকে যার যার মাহাত্ম্য প্রকাশ করা। কার বাড়িতে কী আছে, কার শ্বশুর বাড়ির কী ঐতিহ্য, কার আত্নীয় স্বজন কত বড় মাপের ইত্যাদি। এসব গল্প কলিগদের সম্পর্ককে হিংসা, বিদ্বেষ ও অহংকারের দিকে ঠেলে দেয়। আর শুরু হয় যত বিপদ ও দ্বন্দ্ব। বেশি কথা একদম এড়িয়ে চলুন। সহকর্মীদের সাথে পাওয়ার বা ক্ষমতা দেখাতে যাবেননা। কথা বা কাজে ভুল হলে অকপটে স্বীকার করুন। ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
ঘ)অভিভাবকদের সাথে রেগে যাবেন নাঃ
অভিভাবকগণ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আসে। তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করুন। তারা আপনাকে সরাসরি অভিযুক্ত করলেও তা হাসিমুখে হ্যান্ডেল করার চেষ্টা করুন। আপনি রেগে গেলে কিন্তু ঝামেলা পেকে যাবে। তখন কোনো কলিগকে আপন করে পাবেন না। কারণ অন্যরা তখন ভালো সাজার চেষ্টা করতে পারে। তাই আপনি আপনার দায়িত্বের ব্যাপারে সতর্ক হোন।
ঙ) নিয়মানুবর্তী হোনঃ
আপনার দৈনন্দিন কাজকে উপভোগ করতে হলে আপনি সময়ের কাজ সময়ে করুন। বিদ্যালয়ের কাজ নিয়ে ঠেলাঠেলি করবেন না। আপনার উপর দায়িত্ব অর্পিত হলে এবং তা করা সম্ভব হলে করে ফেলুন। আর সম্ভব না হলে সবিনয়ে অপারগতার যুক্তি উপস্থাপন করুন।
চ) এনার্জাইজার চর্চা করুনঃ
আপনার পাঠদানকালে শিশুদের নিয়ে কোনো একটি শিক্ষামূলক ব্যায়াম বা এনার্জাইজার চর্চা করুন। এক্ষেত্রে ইংলিশ ইন অ্যাকশন থেকে অথবা নেট থেকে তা ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
ছ) পরিমিত পানি পান করুন;
প্রতিটি ক্লাসের পর বিশুদ্ধ পানি পান করুন। শরীর দুর্বল থাকলে স্যালাইন পান করুন। লেবুর রস পানিতে মিশিয়ে শরবত খেলে আরো ভালো হবে।
জ) মিডডে মিল খানঃ
শরীরে শক্তি ধরে রাখার জন্য মিডডে মিল খান।তবে উদরপূর্তি করে খাবেন না।এতে আপনার শরীরে ঝিমুনি চলে আসবে।
ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ, সহকারী শিক্ষক, আউলিয়াবাদ কমলা গোসাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মাধবপুর, হবিগঞ্জ।

Comments
Post a Comment