Skip to main content

উজ্জলপুর সপ্রাবিতে আমার হঠাৎ বদলি এবং আল্লাহর সাহায্য

 


নোয়াপাড়া থেকে খড়কী পৌঁছি ট্যাক্সিযোগে। রাস্তা সরু ও ভাঙ্গা। তাই যাতায়াতে অনেক কষ্ট হয়েছিল। খড়কীর উত্তর দিকের রাস্তা দিয়ে গ্রাম অতিক্রম করে চলছি পশ্চিমের মেঠোপথ ধরে। কলকল শব্দে ছন্দের তালে তালে শেলো থেকে পানি বের হয়ে আঁকাবাকা ড্রেন দিয়ে বোরো ক্ষেতে চলছে। বোরো ক্ষেতের পাশাপাশি সরিষা ও রাই ক্ষেত।গাঢ় হলুদ সর্ষে ফুলে ছেয়ে আছে অর্ধেক মাঠ।ফুলের সুবাসে বাতাসে কী এক তৃপ্তির নিশ্বাস নিচ্ছি। ভ্রমরের গুঞ্জনে মনের কুঞ্জবনে দোলা লেগেছে, দোলা। আমার হৃদয়ে অনেক ক্ষত ছিল মেঠোপথ ধরার পূর্বক্ষণ পর্যন্ত। হিমেল বাতাসে সরিষার ঝিলিক আমাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছিল। সকালের কাঁচা রোদে মাঠের এ অপরূপ দৃশ্য হৃদয়ের ব্যাথা ভুলিয়ে দিল।পথের পরে চারণভূমি ও ছোট নদী পেরিয়ে শুকনো ক্ষেতের আইল ধরে পৌঁছলাম উজ্জ্বলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রধান শিক্ষক পরিমল স্যার আমাকে গ্রহণ করলেন। 

বিকেলে কর্মঘণ্টার পর পরিমল স্যার ও আমি ছাতিয়াইন বাজারে মিষ্টি খেলাম।স্যার আমাকে তাঁর ভাইয়ের কাপড়ের দোকানে রেখে বাড়িতে গেলেন। আধঘন্টা পর ফিরে এসে আমাকে নিয়ে গেলেন মেলায়।ততক্ষণে ঠান্ডা পরে গেছে। শরীরে হিম লাগতে শুরু করেছে। ডাকছে কাক।

মেলায় বাল্যবন্ধু আকিলের সাথে দেখা। গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা। ছাতিয়াইন ব্রাঞ্চে আছে। এক ফাঁকে আমার বদলির বিষয়টি বললাম। আমি তাকে  আমার জন্য বাসা  ভাড়া করতে বললাম। সে জানাল বাসা ভাড়া পাওয়া যায়না। বাসার খুব ক্রাইসিস। আমার দুশ্চিন্তা হতে লাগলো। 

সন্ধ্যে সাতটা হয়ে গেল। মনতলায় ফিরতে হবে। আকিল তার বাসায় আজ থেকে যেতে বলল। পরিমল স্যার বিদায় নিলেন। 

পরের দিন সকালে আকিলের বাসায় নাস্তা খেয়ে স্কুলে রওনা হলাম। পরিমল স্যার ও আমি একসাথে পথ চললাম। মেঠোপথ, আলুক্ষেত, পিঁয়াজ বাগান ও গ্রামীণ প্রান্তর পেরিয়ে কথা বলতে বলতে পৌঁছে গেলাম স্কুলে। ৪৩ মিনিটে হাঁটলাম তিনকিলোমিটার পথ।


ছুটির পর ছাতিয়াইন টেম্পুস্ট্যান্ডে পরিমল স্যার আজকের মতো আমাকে বিদায় জানালেন। স্ট্যান্ডের পাশেই গণজাগরণ শিক্ষা কমিটির অফিস আমার চোখে পড়ল।আমি অফিসের ভেতরের দিকে তাকালাম। একজন পৌঢ় বয়সী লোক চৌকিতে গদ্দির ওপর বসে আছেন। আমার দিকে তাকিয়ে ভরাট কণ্ঠে আমাকে ভেতরে ঢুকতে বললেন। আমি সালাম দিলাম। আমাকে একটি চেয়ারে বসালেন। আমার পরিচয়, বিষয়াদি জানলেন। আমি একটি থাকার জায়গা খোঁজছি তাকে জানালাম। তিনি আমাকে ঝাল খাব না ঠান্ডা খাব জানতে চাইলেন। আমি কিছুই খাবনা জানালাম।তিনি জানতে চাইলেন, আমি কীভাবে থাকতে চাই।তিনি জানালেন, আমি ফ্যামিলি নিয়ে থাকলে ঘর পাব, লাকড়ি পাব। আর সিঙ্গেল থাকলে ঘর ও খাবার উভয়ই পাব। টাকা লাগবেনা। শুধু তার একটা ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে পড়াতে হবে। তিনি তার স্ত্রীকে ফোন করে বললেন,  'সৈয়দ, তোমার এক ছেলেকে নিয়ে আসছি। খাবার রেডি করো'।

এভাবেই শহীদুল ইসলাম বাবু সাহেবের বাসায় আমার লজিং হলো।আল্লাহ সহায়, ঠেকায় কে?

Comments

সাম্প্রতিক খবর

'রুম টু রীড ' এর ' শিক্ষিত শিশু বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা'

  'রুম টু রীড ' এর ' শিক্ষিত শিশু বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা' 'রুম টু রীড ' একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা যা ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন  থেকে সংস্থাটি শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়ন এবং পাঠ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে স্বাক্ষরতা কর্মসূচি এবং মেয়ে শিশুদের শিক্ষা সহায়তা নিয়ে এ সংস্থাটি কাজ করছে। বর্তমানে বিশ্বের ২৯টি দেশে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। সংস্থাটি সেসব দেশের মাতৃভাষার স্বাধীন -সাবলীল পাঠক তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।  ২০০৯ সালে 'রুম টু রীড '  বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। এটি বাংলা ভাষায় শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো - বিদ্যালয় ভিত্তিক পাঠাগার স্থাপন ও বইপড়া কর্মসূচি।  শিশুরা নিজের মাতৃভাষায় যাতে পঠন দক্ষতা অর্জন করতে পারে সে লক্ষ্যে 'রুম টু রীড ' ছাপা সমৃদ্ধ শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করছে। পাঠাগার কেন্দ্রিক এ ছাপা সমৃদ্ধ শিখন পরিবেশ দক্ষ পাঠক তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এতে নবীন -প্রবীণ লেখকদের বিভিন্ন গল্...