Skip to main content

গল্প- ববিটার কথা

                        ববিটার কথা 

লেখক - ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ 



'এই ববি যাহ! যাহ!  তুই আসিস না।' কোনো কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ববি। ম্যাক্স যেখানে যায়, সেখানে ববিটাও। কী স্কুলে, কী প্রাইভেট টিউশন, কী খেলার মাঠ যেখানেই যাবে ম্যাক্স সেখানেই ববিটা উপস্থিত হবে। ওর একটা আচরণ খুবই ভালো -অন্য কাউকে কখনো ডিস্টার্ব করবেনা। এমনকি ভাদ্র মাসেও না। লোকে বলে- ভাদ্র মাসে নাকি ববিরা কামড়ায়। হ্যাঁ, ববির জাত ভাই, জাত বোনেরা একটু ক্রেইজি থাকে এ সময়।তবে ববিটা একদম ব্যতিক্রম। ওর মনোভাবটা একদম শান্ত, ও একদম সুবোধ। তাই ম্যাক্সের বন্ধুরা ওকে খুব ভালোবাসে,আদর করে। ওরা যা খায় তা থেকে খেতে কিছুটা দেয়। এমনকি কোল ড্রিংকসও বাদ যায়নি। ম্যাক্স ববিটাকে একেবারে ছোটবেলা থেকেই কোল ড্রিংকস খাইয়ে অভ্যাস করিয়েছিল। ববিটা হা করে মুখটা ওপরের দিকে তুলে ধরতো।তখন ম্যাক্স বোতল খোলে নিজে খেয়ে ওর মুখে ঢেলে দিতো।কোল ড্রিংকস খাওয়া ম্যাক্স বাদ দিয়েছে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে। 


বাড়ির গ্রিল লাগানো বারান্দায় পড়তে বসে ম্যাক্স অংক কষে। ববিটা এসে চারপা ছড়িয়ে টেবিলের পাশে শুয়ে থাকে। ম্যাক্সের মা ড্রাইকেক আর চা খেতে দিলে ক্ষুধার্ত প্রাণীটা ফ্যালফ্যাল করে খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকে। ম্যাক্স একটা কেইক ছুঁড়ে দেয় ওর দিকে। তৃপ্তিতে খেয়ে ফেলে সে।

আজ ম্যাক্সের বৃত্তি পরীক্ষা। উপজেলা সদরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সে তৈরি হয়ে সকাল আটটার দিকে সিএনজিতে উঠতে রওনা হলো। ওদের বাড়ি থেকে কাঁচা রাস্তা  পূর্ব দিকে একটি পাকা রাস্তায় মিলিত হয়েছে। ওখানে ড্রাইভার অপেক্ষা করছে সিএনজি নিয়ে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি প্রবল বৃষ্টির কারণে রাস্তায় কাদা থাকায় ড্রাইভার বাড়ি পর্যন্ত আসতে রাজি নন।


ম্যাক্স আরও কয়েকবার ববিকে ধমক দিল,' যাহ! যাহ!' ববিটা সিএনজি পর্যন্ত এসেছে। ম্যাক্স উঠে গেল সিএনজিতে। ড্রাইভার চালানো শুরু করে দিল।ম্যাক্স একবার সিএনজির গ্লাসটার দিকে চোখ দিল।ববিটা সিএনজির পিছু দৌঁড়াচ্ছে। 


পরীক্ষার সেন্টারে ঢুকে পড়ল ম্যাক্স।পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল সকাল ১০টায়।কেন্দ্রের গেইট লাগিয়ে দিল গার্ড। এদিকে ববি এসে হাজির। গেইট লাগানো দেখে বকবক আওয়াজ করতে লাগলো। কিভাবে ও বুঝতে পারলো ম্যাক্স ভেতরে আছে? গার্ড মোটা লাঠি হাতে ওকে তাড়া করল।ববিটা যায়না। গেইটের সামনে জড়ো হওয়া অভিভাবকেরা বারবার তাড়াবার চেষ্টা করলো। কিন্তু ববিটা কিছুতেই সরছে না। গার্ড মোটা লাঠি দিয়ে আঘাত করলো ওর মাথায়। ও মাথাটা সরিয়ে নিলেও আঘাত লেগে গেল কানে। ছিঁলে গেল ওর কানটা। জিহ্বা বের করে শুয়ে পড়লো ববি।সবাই বলল,থাক এটা। তাড়ালে যাবেনা। 


পরীক্ষার পর ম্যাক্স সোজা চলে আসলো গেইটের সামনে। ববিটা বসে আছে। ওর কান দিয়ে রক্ত পরছে। নিশ্চয়ই কেউ ওকে কঠিন আঘাত করেছে। 'কে মেরেছে, ববিকে? কে? ' ম্যাক্সের এ প্রশ্ন অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের কোলাহলে হারিয়ে গেল। ম্যাক্স অনেক কষ্ট পেল।ও দৌঁড়ে পাশের ঝোঁপ থেকে জার্মান পাতা এনে কচলিয়ে ববির আহত হওয়া স্থানে লাগিয়ে দিল। ববিকে বলল,'বলছিলামনা আজ না আসার জন্য।'

 তিনমাস পর বৃত্তি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হল।সবাই খুশি। ম্যাক্স ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে। কিন্তুুু ওর মনটা একদম ভালোনা। ওর মা বলল,' কিরে তুই খুশি না? ট্যালেন্টপুলের চেয়ে আরতো কোনো ভালো লেভেল নেই। তুইতো সেরাটাই অর্জন করেছিস।' ম্যাক্স বললো, 'মা, আজ ববিটার কথা খুব মনে পরছে। ' বৃত্তি পরীক্ষার দিন ফেরার পথে ববিটা একটা বাসের চাপায় পরে মারা গিয়েছিল।

আরও পড়ুন:

সিলেট বিভাগে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান

আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োজিত কর্মচারীদের শাহবাগ অবরোধ 

 English Language Club এ সদস্য ভর্তি চলছে

আগামীকাল মাধবপুর আসছেন ড আহমদ আবদুল কাদের

গল্প- ববিটার কথা

বিষয়ভিত্তিক বাংলা প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে

সৌন্দর্য ও ফিটনেসে চিত্র নায়িকা রোজিনার বর্ণাঢ্য পথচলা


বিশ্বের চলচ্চিত্র অঙ্গনে সৌন্দর্যের মহারাণী চিত্র নায়িকা রোজিনা। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। কিন্তু তাকে দেখলে মনে হয়না তাঁর বয়স ত্রিশ - পয়ঁত্রিশ হবে। সদ্য ইউনিভার্সিটি পাশ করা যুবতীর মতো। সৌন্দর্য ও ফিটনেস সচেতন এই মহানায়িকাকে নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন তারকার কথা। 

চিত্র নায়িকা রোজিনা ১৯৫৫ সালের ২০ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম রওশন আরা রেণু। 


চিত্র নায়িকা রোজিনার রুপালী পর্দায় পদার্পণে একটি বিস্ময়কর ঘটনা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রে আসার তীব্র বাসনা ছিল তাঁর মনে। কিন্তু কোনো সুযোগ পাচ্ছিলেন না।একদিন সংসদ ভবন এলাকায় একটি ছবির শুটিং হচ্ছিল। তিনি দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। ওই সময় একটি দৃশ্যে ড্রিংকস পরিবেশনের জন্য একজন মেয়ের প্রয়োজন হলে উপস্থিতদের মধ্যে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। এভাবে রুপালী পর্দায় পদার্পণ করেন তিনি। এরপর তাঁর আগ্রহ, মেধা ও পরিশ্রমে এ পর্যন্ত এসে নিজেকে মহানায়িকা হিসেবে গৌরবময় আসনে  প্রতিষ্ঠিত করেছেন। 

১৯৮৪ সালে ভারত - বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র 'অবিচার ' এ মিঠুন চক্রবর্তীর বিপরীতে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন নায়িকা রোজিনা ।১৯ ৮৬ সালে নায়ক নাদিমের সাথে 'হাম সে হায় জামানা'য় অভিনয় করে নিগার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন তিনি। 


চিত্র নায়িকা রোজিনার উল্লেখযোগ্য ছায়াছবি হলো - তীর ভাঙা ঢেউ, মাটির মায়া, হারানো মানিক, শহর থেকে দূরে, আয়না, রাজমহল, শীষ নাগ, সোনার চেয়ে দামী, মাটির মানুষ, অভিমান, স্মৃতি তুমি বেদনা, আখেরী নিশান, হুর এ আরব,আনার কলি, মোকাবেলা, রাজনন্দিনী, রাজকন্যা, শাহী দরবার, গাঁয়ের ছেলে, সংঘর্ষ, আলাদীন আলী বাবা সিন্দাবাদ, আল্লাহ মেহেরবান ইত্যাদি। 

দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে তিনি চিত্রনায়ক ওয়াসিম, আলমগীর, সোহেল রানা, জসিম, জাফর ইকবাল, উজ্জ্বল, বুলবুল আহমেদ, মাহমুদ কলির মতো খ্যাতিমান নায়কদের বিপরীতে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন। তিনি কিংবদন্তী নায়িকা শাবানা ও ববিতার সাথে অভিনয় করে প্রশংসিত হন।

মধু লেনদেন


ভোমরা নিশিতে ফুলের কানে কানে 

প্রেমের কথা বলে সংগোপনে,

ফুল ছড়িয়ে ধরে পাপড়ির দল,

ভোমরা চুষে খায় মধুর জল। 


ভোমরার ঠোঁটে পরে থাকে ফুলের ঠোঁট, 

পাপড়ি নাড়িয়ে ঝাঁকিয়ে হয় মধু লুট।

পৃথিবীর যত জঞ্জাল, যত লেনাদেনা, 

মাড়িয়ে আসে মনে তাক ধিন ধিন ধিনা।

কোথায় চন্দ্র, সূর্য, সাগর, মহাসাগর কে জানে? 

নাই, নাই  কিছু ফুল আর ভোমরা বিনে,

কে জানে কোথায় আছে ঘাসফড়িং আর প্রজাপতি, 

হিসেব নিকেশ নাই কোথায় লাভ ক্ষতি।

সব ভুলে মন খোলে মধু লেনদেন, 

আজ আর কে বলে - আমায় ছাড়েন? 


মধু শুধু পিয়ে যায় মাতাল যাদু,

উতাল- পাতাল হাওয়ায় দোলে ফুলবধূ।

ঝড়ে নামে প্রেমজ্বালা ভোমরার হোলে, 

মনখোলা মায়া উঠে ফুলের কোলে। 

চোখে জ্বলা আগুন রাঙায় চরম ফাগুন, 

এই প্রেম সেই লাগে, দারুণ! দারুণ!



মরমী শিল্পী ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ এর নতুন গান ‘ আমি কার ভরসায় দেব পারি পুলসেরাতের পুল’তার ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত হয়েছে।     https://fb.watch/sAfWUD2KyE/  এ লিংকে প্রবেশ করলে গানটি দেখতে পাবেন।

ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ একজন গীতিকার, কবি ও নাট্যকার। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি লিখে চলেছেন। তার লেখা প্রথম কবিতা অভিলাষ ১৯৯৫ সালে দৈনিক ইনসাফ বার্তায় প্রকাশিত হয়।
১৯৯৫ সালের গোড়ার দিকে তিনি হবিগঞ্জ সমাচার পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন।এময় দৈনিক আল মুজাদ্দেদ পত্রিকায় তিনি প্রবন্ধ লিখতে থাকেন। 

১৯৯৮ সালে হবিগঞ্জ থেকে প্রকাশিত স্বাধিকার পত্রিকায় তিনি মাধবপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ দুই বছর তিনি এতে লেখালেখি করেন। 

২০০০ সালে কুলাউড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক মানব ঠিকানায় তিনি সাংবাদিকতা করেন। ২০০২ সাল থেকে  দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকায় তার ছড়া ও নিবন্ধ প্রকাশিত হতে শুরু করে।

দীর্ঘদিন বিরতির পর ২০১০ সালে তার শ্রেণিভিত্তিক লেখা দৈনিক ইত্তেফাকের অনুশীলন বিভাগে প্রকাশিত হয়। 

এরপর লেখালেখিতে আবারও বিরতি দেন। ২০২২ সালে আবার লেখালেখি শুরু করেন দৈনিক ইত্তেফাকের অনুশীলন পাতায় । 

বর্তমানে তিনি অনেক স্বরচিত গান গেয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় আপলোড দিচ্ছেন। 


Comments

সাম্প্রতিক খবর

'রুম টু রীড ' এর ' শিক্ষিত শিশু বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা'

  'রুম টু রীড ' এর ' শিক্ষিত শিশু বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা' 'রুম টু রীড ' একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা যা ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন  থেকে সংস্থাটি শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়ন এবং পাঠ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে স্বাক্ষরতা কর্মসূচি এবং মেয়ে শিশুদের শিক্ষা সহায়তা নিয়ে এ সংস্থাটি কাজ করছে। বর্তমানে বিশ্বের ২৯টি দেশে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। সংস্থাটি সেসব দেশের মাতৃভাষার স্বাধীন -সাবলীল পাঠক তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।  ২০০৯ সালে 'রুম টু রীড '  বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। এটি বাংলা ভাষায় শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো - বিদ্যালয় ভিত্তিক পাঠাগার স্থাপন ও বইপড়া কর্মসূচি।  শিশুরা নিজের মাতৃভাষায় যাতে পঠন দক্ষতা অর্জন করতে পারে সে লক্ষ্যে 'রুম টু রীড ' ছাপা সমৃদ্ধ শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করছে। পাঠাগার কেন্দ্রিক এ ছাপা সমৃদ্ধ শিখন পরিবেশ দক্ষ পাঠক তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এতে নবীন -প্রবীণ লেখকদের বিভিন্ন গল্...