জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন চুনারুঘাট উপজেলার নরপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান। তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি তাঁর বিদ্যালয়কে অনেকদূর এগিয়ে নিয়েছেন উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে। ছাত্র- ছাত্রীর উপস্থিতি বৃদ্ধি, রিডিং দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিভাবকদের শিক্ষা সচেতনতা তৈরিতে তিনি ব্যাপক অবদান রাখেন। তিনি একজন ধর্মপরায়ণ ও নীতিবাদী শিক্ষক হিসেবে সর্ব মহলে পরিচিত। বৃটিশ কাউন্সিল এর টিএমটিইর একজন সদস্য ও দক্ষ ইংরেজি প্রশিক্ষক হিসেবে অনেক অবদান রয়েছে তাঁর।
লেখক - ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ
'এই ববি যাহ! যাহ! তুই আসিস না।' কোনো কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ববি। ম্যাক্স যেখানে যায়, সেখানে ববিটাও। কী স্কুলে, কী প্রাইভেট টিউশন, কী খেলার মাঠ যেখানেই যাবে ম্যাক্স সেখানেই ববিটা উপস্থিত হবে। ওর একটা আচরণ খুবই ভালো -অন্য কাউকে কখনো ডিস্টার্ব করবেনা। এমনকি ভাদ্র মাসেও না। লোকে বলে- ভাদ্র মাসে নাকি ববিরা কামড়ায়। হ্যাঁ, ববির জাত ভাই, জাত বোনেরা একটু ক্রেইজি থাকে এ সময়।তবে ববিটা একদম ব্যতিক্রম। ওর মনোভাবটা একদম শান্ত, ও একদম সুবোধ। তাই ম্যাক্সের বন্ধুরা ওকে খুব ভালোবাসে,আদর করে। ওরা যা খায় তা থেকে খেতে কিছুটা দেয়। এমনকি কোল ড্রিংকসও বাদ যায়নি। ম্যাক্স ববিটাকে একেবারে ছোটবেলা থেকেই কোল ড্রিংকস খাইয়ে অভ্যাস করিয়েছিল। ববিটা হা করে মুখটা ওপরের দিকে তুলে ধরতো।তখন ম্যাক্স বোতল খোলে নিজে খেয়ে ওর মুখে ঢেলে দিতো।কোল ড্রিংকস খাওয়া ম্যাক্স বাদ দিয়েছে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে।
বাড়ির গ্রিল লাগানো বারান্দায় পড়তে বসে ম্যাক্স অংক কষে। ববিটা এসে চারপা ছড়িয়ে টেবিলের পাশে শুয়ে থাকে। ম্যাক্সের মা ড্রাইকেক আর চা খেতে দিলে ক্ষুধার্ত প্রাণীটা ফ্যালফ্যাল করে খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকে। ম্যাক্স একটা কেইক ছুঁড়ে দেয় ওর দিকে। তৃপ্তিতে খেয়ে ফেলে সে।
আজ ম্যাক্সের বৃত্তি পরীক্ষা। উপজেলা সদরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সে তৈরি হয়ে সকাল আটটার দিকে সিএনজিতে উঠতে রওনা হলো। ওদের বাড়ি থেকে কাঁচা রাস্তা পূর্ব দিকে একটি পাকা রাস্তায় মিলিত হয়েছে। ওখানে ড্রাইভার অপেক্ষা করছে সিএনজি নিয়ে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি প্রবল বৃষ্টির কারণে রাস্তায় কাদা থাকায় ড্রাইভার বাড়ি পর্যন্ত আসতে রাজি নন।
ম্যাক্স আরও কয়েকবার ববিকে ধমক দিল,' যাহ! যাহ!' ববিটা সিএনজি পর্যন্ত এসেছে। ম্যাক্স উঠে গেল সিএনজিতে। ড্রাইভার চালানো শুরু করে দিল।ম্যাক্স একবার সিএনজির গ্লাসটার দিকে চোখ দিল।ববিটা সিএনজির পিছু দৌঁড়াচ্ছে।
পরীক্ষার সেন্টারে ঢুকে পড়ল ম্যাক্স।পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল সকাল ১০টায়।কেন্দ্রের গেইট লাগিয়ে দিল গার্ড। এদিকে ববি এসে হাজির। গেইট লাগানো দেখে বকবক আওয়াজ করতে লাগলো। কিভাবে ও বুঝতে পারলো ম্যাক্স ভেতরে আছে? গার্ড মোটা লাঠি হাতে ওকে তাড়া করল।ববিটা যায়না। গেইটের সামনে জড়ো হওয়া অভিভাবকেরা বারবার তাড়াবার চেষ্টা করলো। কিন্তু ববিটা কিছুতেই সরছে না। গার্ড মোটা লাঠি দিয়ে আঘাত করলো ওর মাথায়। ও মাথাটা সরিয়ে নিলেও আঘাত লেগে গেল কানে। ছিঁলে গেল ওর কানটা। জিহ্বা বের করে শুয়ে পড়লো ববি।সবাই বলল,থাক এটা। তাড়ালে যাবেনা।
পরীক্ষার পর ম্যাক্স সোজা চলে আসলো গেইটের সামনে। ববিটা বসে আছে। ওর কান দিয়ে রক্ত পরছে। নিশ্চয়ই কেউ ওকে কঠিন আঘাত করেছে। 'কে মেরেছে, ববিকে? কে? ' ম্যাক্সের এ প্রশ্ন অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের কোলাহলে হারিয়ে গেল। ম্যাক্স অনেক কষ্ট পেল।ও দৌঁড়ে পাশের ঝোঁপ থেকে জার্মান পাতা এনে কচলিয়ে ববির আহত হওয়া স্থানে লাগিয়ে দিল। ববিকে বলল,'বলছিলামনা আজ না আসার জন্য।'
তিনমাস পর বৃত্তি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হল।সবাই খুশি। ম্যাক্স ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে। কিন্তুুু ওর মনটা একদম ভালোনা। ওর মা বলল,' কিরে তুই খুশি না? ট্যালেন্টপুলের চেয়ে আরতো কোনো ভালো লেভেল নেই। তুইতো সেরাটাই অর্জন করেছিস।' ম্যাক্স বললো, 'মা, আজ ববিটার কথা খুব মনে পরছে। ' বৃত্তি পরীক্ষার দিন ফেরার পথে ববিটা একটা বাসের চাপায় পরে মারা গিয়েছিল।
আরও পড়ুন:
আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োজিত কর্মচারীদের শাহবাগ অবরোধ
English Language Club এ সদস্য ভর্তি চলছে
আগামীকাল মাধবপুর আসছেন ড আহমদ আবদুল কাদের
বিষয়ভিত্তিক বাংলা প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে
সিলেট বিভাগে শ্রেষ্ঠ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার কবি মো রফিকুল ইসলাম
সিলেট বিভাগে শ্রেষ্ঠ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন মাধবপুর উপজেলায় কর্মরত সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিশিষ্ট সাহিত্যক একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম ছন্দের জাদুকর কবি মো রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিকুল নাজিম।
প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি নবতর ধ্যানধারণার প্রবক্তা।উপকরণ তৈরিতে তিনি শিক্ষকদের নিয়ে একধাপ এগিয়ে কাজ করেছেন। ইদানিং শুরু করেছেন বাংলা গুরু নামে একটি বিশেষ উদ্ভাবন। এতে শিশুর সাবলীল বাংলা রিডিং দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে তিনি নবতর ধারণা ছড়িয়ে দিচ্ছেন শিক্ষকদের কাছে। পত্রিকা সম্পাদনা হিসেবে রয়েছে তাঁর বিশেষ খ্যাতি। দেশের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রগুলোতে তাঁর লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। লেখকও পাঠক মহলে তিনি খুব সমাদৃত ব্যাক্তি।
তাঁর একটি অনবদ্য উদ্ভাবন হলো আমার স্বপ্ন। এ উদ্ভাবনী আইডিয়াটি তিনি ২০১৭ সালে গ্রহণ করেন।
পাঠকদের কাছে তাঁর উদ্ভাবনটি উপস্থাপন করা হলো -
প্রজেক্টঃ #আমার_স্বপ্ন
উদ্ভাবনের সময়ঃ এপ্রিল -২০১৭।
উদ্ভাবকঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম,
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার,
মাধবপুর, হবিগঞ্জ।
#উদ্দেশ্যঃ
ক.সামাজিকভাবে সর্বজন স্বীকৃত পেশা ও তার দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে শিশুরা বলতে পারবে।
খ. শিক্ষার্থীরা নিজের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারবে।
গ. নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবে।
ঘ. প্রচলিত পাঠদান পদ্ধতির পরিবর্তে শিশুরা আনন্দের সাথে আকর্ষণীয় পদ্ধতিতে, আনন্দময়, খেলাচ্ছলে শিখবে।
মোট ধাপঃ ৩ টি।
#ধাপ_১
শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ডের উপর ব্যানারে (সম্ভাব্য দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট × প্রস্থ ২ ফুট) সামাজিকভাবে সর্বজন স্বীকৃত পেশাজীবীদের ছবি (যেমনঃ বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকা/ইউনিয়ন/ উপজেলার সুপরিচিত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, শিক্ষক, পুলিশ, ব্যারিস্টার, পাইলট, বিজ্ঞানী, নার্স+++ পেশাজীবীদের ছবি দিলে ভালো হবে) ও লেখা থাকবে 'আমি ডাক্তার হবোই', 'আমি ইঞ্জিনিয়ার হবোই।
#ধাপ_১_বাস্তবায়ন_কৌশলঃ
প্রতি শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ড/ মেটালিক বোর্ডের উপরে লাগানো 'আমার স্বপ্ন' ব্যানারটির প্রতিটি পেশা সম্পর্কে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক প্রতিক্লাসে একটি করে পেশা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদেরকে বলবেন (যেমনঃ ৩য় শ্রেণির বাংলা বিষয়টি পাঠদান কালে শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে 'ডাক্তার' সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরবেন)। এভাবে সবগুলো পেশা সম্পর্কে বলা শেষ হবে।
#ধাপ_২
২য় ধাপে শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদেরকে তাদের স্বপ্নের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন এবং প্রাপ্ত স্বপ্নের সাথে নামটা এড করে ঐ শিক্ষার্থীকে ডাকবেন। যেমনঃ ডাক্তার যুনাইরা, ইঞ্জিনিয়ার রাতিন, শিক্ষক রামিম........।
#ধাপ_২_বাস্তবায়ন_কৌশল
যেমনঃ ৪র্থ শ্রেণির রোলনং ১৯ মিথিলা কে সহকারী শিক্ষক প্রতিমা রাণী বিশ্বাস প্রশ্ন করলেন, 'মিথিলা, তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও?' মিথিলা উত্তর দিলো, 'আমি ডাক্তার হতে চাই।' তখন থেকে শিক্ষক প্রতিমা রাণী বিশ্বাস শিক্ষার্থী মিথিলাকে 'ডাক্তার মিথিলা' বলে সবসময় শ্রেণিতে সম্বোধন করবেন।এতে শিক্ষার্থী মিথিলা মানসিকভাবে নিজেকে ডাক্তার হিসেবে কল্পনা করতে থাকবে।
#ধাপ_৩
সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার শেষ ক্লাসে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। শ্রেণি শিক্ষকের নেতৃত্বে প্রতি সপ্তাহে স্বপ্ন ভিত্তিক দল করে একটা নির্দিষ্ট পেশা নিয়ে #অভিনয় করাবেন।
#ধাপ_৩_বাস্তবায়ন_কৌশল
যেমনঃ মাধবপুর সপ্রাবি এর ৪র্থ শ্রেণির ৬৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ডাক্তার হতে চেয়েছে ০৮ জন। এই ০৮ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শ্রেণিতে 'ডাক্তার' বিষয়ক একটা নাটিকা মঞ্চস্থ করবে। যারা ডাক্তার হতে চেয়েছে তারাই অভিনয়ে অংশগ্রহন করবে।
যেমনঃ অক্টোবর মাসের ২য় বৃহস্পতিবার ৪র্থ শ্রেণির ০৮ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ৫/১০ মিনিটের একটা নাটিকা মঞ্চায়ন করবেন। এভাবে শিক্ষার্থীদের মনে 'আমার স্বপ্ন' দীর্ঘস্থায়ীত্ব পাবে। তবে উল্লেখ থাকে যে, নাটিকায় প্রতিটি পেশার সাথে যায় এমন মানবিক দৃশ্যেরও অবতারণা করবেন। ( যেমনঃ একজন ডাক্তারের কাছে গরিব রোগী আসলে ডাক্তার মানবিক বিবেচনায় ফ্রি সেবা প্রদান করার মতো দৃশ্যও নাটিকায় থাকবে)
শিখনফলঃ
১.১. শিক্ষার্থীরা নিজেদের মনে লালিত একটা স্বপ্নের কথা বলতে পারবে।
১.২. শিক্ষার্থী নিজের স্বপ্নের ভালো দিক গুলো উপস্থাপন করতে পারবে।
১.৩. শিক্ষার্থীদের মানসপটে জীবনের লক্ষ্য চিরন্তন আসন পেতে বসবে।
১.৪. নিজেকে যেকোন জায়গায় ভয়ভীতি ও জড়তামুক্ত হয়ে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবে।
সবার সার্বিক কল্যাণ ও শুভ কামনা জানাচ্ছি।
প্রতিটি শিশু হোক সুরভিত ফুল।
পৃথিবীটা হোক ফুলের স্নিগ্ধ মালা।
ভালো লাগলে শেয়ার করুন ও নিজ বিদ্যালয়ে স্থাপন করুন।
এগিয়ে যাক প্রাথমিক শিক্ষা,
এগিয়ে যাবেই বাংলাদেশ।
আমরা করবো জয় ✌
সূত - রফিকুল নাজিম স্যারের ফেইসবুক আইডি থেকে
আরও পড়ুন:
আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োজিত কর্মচারীদের শাহবাগ অবরোধ
English Language Club এ সদস্য ভর্তি চলছে



Comments
Post a Comment