Skip to main content

মান সম্মত শিক্ষার জন্য শ্রেণি ব্যবস্তাপনার গুরুত্ব

 


বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষার জন্য  শ্রেণি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ শ্রেণি ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে করা হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা স্বাচ্ছন্দ্যে  এগিয়ে যায়। শিখন- শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হয়। একটি শ্রেণিকক্ষে শিখন শেখানো কার্যক্রম সুচারুভাবে পারিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বস্তুর ব্যবস্থাপনাই হলো শ্রেণি ব্যবস্থাপনা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো শিক্ষক, শ্রেণির কাঠামো, শিখন- শেখানো সামগ্রী, মাল্টিমিডিয়া ও শিক্ষার্থী ব্যবস্থাপনা।


 শ্রেণিতে শিক্ষক ব্যবস্থাপনাঃ যিনি যে বিষয়ের উপযুক্ত এবং যোগ্য তাকেই সে বিষয়ে শিক্ষাদানের ভারাভার অর্পণ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে রুটিন প্রস্তুতির সময় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণ পারস্পরিক মতবিনিময় করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় এবং কোনোরকম আবেগ ও স্বজনপ্রীতির উর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হয়। তা না হলে শিক্ষকবৃন্দের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হয় এবং মানসম্মত শিক্ষা ব্যাহত হয়। তাই রুটিন প্রস্তুতকালে অন্যায় আবেগ ও লেজুড়বৃত্তি পরিহার করতে হবে।  


শ্রেণিতে শিক্ষকের প্রবেশ ও বাহির সময়মতো হওয়া প্রয়োজন। এক শিক্ষক অন্য শিক্ষকের সময় কেড়ে নেওয়া অনুচিত। 


শিক্ষক কর্তৃপক্ষের দ্বারা ব্যবস্থাপনার কিছু বিষয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকেন। বেশির ভাগ ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ তার নিজস্ব। তাই শিক্ষকের আত্নব্যবস্থাপনা যত প্রবল শ্রেণি ব্যবস্থাপনা ততই সুন্দর। কোনো শ্রমিককে চাপ প্রয়োগ করে কায়িকশ্রমের  কাজ আদায় করা সম্ভব। কিন্তু শিক্ষাদানের মতো কাজে শিক্ষককে চাপ প্রয়োগ করে বা তার উপর পুলিশি নজরদারি করলে খুব একটা উপকার পাওয়া যায়না। বরং পরিণতির দিন দিন অবনতি হয়। দেখা গেছে, যথাসময়ে যথাযথ উপকরণ ও পাঠটীকা নিয়ে শিক্ষক শ্রেণিতে উপস্থিত হয়ে পাঠদান করা সত্বেও শিক্ষার মান যেমন ছিল তাই থেকে গেছে। এর নেপথ্যের রহস্য কী? কোনো এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শিক্ষকদের কলিগদের পারস্পরিক দ্বন্ধে  পাঠদানে বাহ্যিক সকল প্রস্তুতি সত্বেও মানসিকভাবে অপ্রস্তুত বিধায় কেউই সফলতা পাচ্ছেনা। এছাড়া লেজুড়বৃত্তিকপ্রীতি, ছুটির বৈষম্য, বিদ্যালয়ের কাজে মতামতের গুরুত্বহীনতা, প্রশিক্ষণ বৈষম্য, অবহেলা ইত্যাদি শিক্ষকের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং পাঠদানের যাবতীয় উপকরণ থাকা সত্বেও তাকে পিছিয়ে রাখে।


শিক্ষককে মহৎমন নিয়ে কাজ করতে হবে। সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে প্রচ্ছন্ন মনে তাকে তার দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। নিজের পরিপাটি পোশাক পরিচ্ছদ, পূর্বপ্রস্তুতি ও ফুরফুরে মন নিয়ে শ্রেণিতে প্রবেশ করতে হবে। তাকে মনে রাখতে হবে পৃথিবীর কোনো সফল শিক্ষকই বাধাহীন ছিলেননা। 


অবকাঠামো ব্যবস্থাপনাঃ

একজন শিক্ষককে তার শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার - পরিচ্ছন্ন আছে কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে। পর্যাপ্ত আলো - বাতাস আছে কিনা এবং বাহির থেকে মশা ঢুকে কোনো সমস্যা তৈরি করছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।

শিক্ষার্থীরা অনেকসময় নিজেরা কোস্তাকুস্তি করে বেঞ্চ ভেঙে ফেলে। এ ব্যাপারে শিশুদের কাউন্সিলিং করতে হবে। ওরা যাতে বসে স্বাচ্ছন্দ্যে লিখতে ও পড়তে  পারে সে পরিমাণ জায়গা নিশ্চিত করতে হবে।কারণ শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসলে তাদের পাঠগ্রহণ আরামদায়ক হবেনা।


শিখন- শেখানো সামগ্রী ব্যবস্থাপনাঃ

একটি শ্রেণিকক্ষে বোর্ড, মার্কার পেন,চক,ডাস্টার, পোস্টার,চার্ট,মডেল, ছবি,পাঠ্যপুস্তাক ইত্যাদির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।  প্রদর্শনযোগ্য উপকরণ এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে যেন তা অবলোকন করতে কারো অসুবিধা না হয়। পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চেয়ে  না নিয়ে নিজের একটি কপি সংগ্রহে রাখা প্রয়োজন। শিখন শেখানো সামগ্রীর অপচয় যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ব্যবহার শেষে এগুলো নিরাপদ ও সহজে গ্রহণযোগ্য স্থানে রাখতে হবে। এগুলোর কোনটা কী পরিমাণে রয়েছে তার হিসাব রাখার জন্য একটি রেজিস্ট্রার ব্যবহার করতে হবে। 


মাল্টিমিডিয়ার যত্নঃ

অনেকগুলো বিদ্যালয় এখন শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করছে। এতে প্রজেক্টর, ল্যাপটপ,মডেম,রাউটার, সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার হচ্ছে। এসবের যথাযথ যত্ন নেওয়ার অবহেলা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো কিছু ব্যক্তিগত না হয়ে সরকারি  হলে তাতে অবহেলা ও অযত্ন হতে দেখা যায়। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক শিক্ষক নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তির চেয়ে সরকারি সম্পত্তির হেফাজতে বেশি গুরুত্ব দেন।


ছাত্রছাত্রী ব্যবস্থাপনাঃ

সকল ব্যবস্থাপনার মধ্যে ছাত্রছাত্রী ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর উপস্থিতি  ও মনোযোগ ধরে রাখা একটি বিরাট কাজ।ওদের চেঁচামেচি, শোরগোল, গল্পগুজব  থেকে ফিরিয়ে পাঠের দিকে ধাবিত করার জন্য নানা কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করতে হয়। 

একটি বিশাল ক্লাসে শিশুদের নিয়ন্ত্রণের জন্য আই কন্টাক্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি  কৌশল। শ্রেণির  সকল শিশুর প্রতি    চোখ রাখতে   হবে। ঘাড় অথবা মাথা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ডান,বাম ও সামনে তাকাতে হবে। সকল শিশুর সক্রিয়তার জন্য দলীয় কাজের অপার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাঠের আলোচ্য বিষয়ে  শিশুর মতামত প্রকাশের জন্য উৎসাহিত করলে শ্রেণি কার্যক্রম জোরদার হবে।


ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ, 

সহকারী শিক্ষক, 

আউলিয়াবাদ কমলা গোসাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মাধবপুর, হবিগঞ্জ। 


Comments

সাম্প্রতিক খবর

'রুম টু রীড ' এর ' শিক্ষিত শিশু বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা'

  'রুম টু রীড ' এর ' শিক্ষিত শিশু বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা' 'রুম টু রীড ' একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা যা ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন  থেকে সংস্থাটি শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়ন এবং পাঠ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে স্বাক্ষরতা কর্মসূচি এবং মেয়ে শিশুদের শিক্ষা সহায়তা নিয়ে এ সংস্থাটি কাজ করছে। বর্তমানে বিশ্বের ২৯টি দেশে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। সংস্থাটি সেসব দেশের মাতৃভাষার স্বাধীন -সাবলীল পাঠক তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।  ২০০৯ সালে 'রুম টু রীড '  বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। এটি বাংলা ভাষায় শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো - বিদ্যালয় ভিত্তিক পাঠাগার স্থাপন ও বইপড়া কর্মসূচি।  শিশুরা নিজের মাতৃভাষায় যাতে পঠন দক্ষতা অর্জন করতে পারে সে লক্ষ্যে 'রুম টু রীড ' ছাপা সমৃদ্ধ শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করছে। পাঠাগার কেন্দ্রিক এ ছাপা সমৃদ্ধ শিখন পরিবেশ দক্ষ পাঠক তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এতে নবীন -প্রবীণ লেখকদের বিভিন্ন গল্...