শিশু শিক্ষা নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের বিষয়বস্তুর জ্ঞানের খুব একটা ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়না। পাঠের আলোচনার প্রস্তুতির জন্য তাদের বেশি বেগ পেতে হয়না। কিন্তু যে ব্যাপারটি তাদেরকে বেশি ভাবিয়ে তুলে তা হলো পাঠদান কৌশল ও পদ্ধতি।
একজন বয়স্ক শিক্ষার্থীকে সহজে শিখানো সম্ভব। তার জন্য যে কোনো একটি পদ্ধতি হলেই চলে। কারণ বিষয়বস্তু শোনলে বা পড়লে সে শিখতে পারে। শুধু কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যখ্যা চাইতে পারে। কিন্তু শিশুর বেলায় বিষয়বস্তু শিখাতে চাইলে পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে।
সকল শিশু একই পদ্ধতিতে শিখেনা। একেকজন একেক ভাবে শিখে। প্রখ্যাত শিশু মনোবিজ্ঞানী হাওয়ার্ড গার্ডনার তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে শিশু বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে শিখে।
মৌখিক ও ভাষাবৃত্তীয় উপায়ে অনেক শিশুর শিখনে অগ্রগতি সাধিত হয়। তারা গল্প ও আলোচনা শোনে বিষয়বস্তু সহজে আয়ত্ত করে ফেলে। তারা নিজেদের জানা বা পড়া কোনো বিষয় অকপটে বর্ণনা করতে পারে। কল্পনার আশ্রয় নিয়ে কোনো কিছু তৈরি করে বলতে পারে।
অনেক শিশু কিচ্ছা- কাহিনী ও আলোচনা শোনতে ভালোবাসেনা। তারা নিজ চোখে দেখে বা পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত শিখে ফেলে। এজন্যই দেখা যায় পাঠ্যাংশ বলতে বা পড়তে পিছিয়ে থাকা শিশু ছবি আঁকায় পারদর্শী। কোনো একটি যন্ত্র খোলে আবার পার্টসগুলো স্ব স্ব স্থানে লাগিয়ে দিতে পারে। মূলত দৃষ্টি ও অবস্থানমূলক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভালো মেকানিক অথবা ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে।
অনেক শিশু ভেবে চিন্তে শিখে। তারা প্রতিটি কাজের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে।কোনো কিছুর যৌক্তিক হিসাব সঠিক না হলে বিষয়টি এড়িয়ে যায়।তাই শিখন- শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য যৌক্তিক ও গাণিতিক কাজ পরিচালনা করা প্রয়োজন।
প্রকৃতির বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে শিশুর কৌতুহলের শেষ নেই। এটা কী, ওটা কী এরকম হাজারো প্রশ্ন শিশুর মনে ঘুরপাক খেতে থাকে। প্রকৃতির বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে শিশু শিখতে ভালবাসে। তাই পাঠদানের জন্য শিশুদের প্রকৃতি দর্শন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অনেক শিশু আছে যারা ছন্দ ও নৃত্যের তালে তালে শিখতে পছন্দ করে। তারা,ছড়া, কবিতা, গান, নৃত্য ভালোবাসে বিধায় পাঠে এসব সংযোজন করতে হবে।
মুখে কোনো কিছু সম্পর্কে বলার চেয়ে তার বাস্তবরুপ অথবা ছবি প্রদর্শন অতি কার্যকরী। কারণ কোনো কিছু বাস্তবে দেখিয়ে বিশ্লেষণ করলে শিখন খুবই কার্যকর হয়। পাঠ সংশ্লিষ্ট ছবি, মডেল, বাস্তব বস্তু শিখনকে অন্যান্য পন্থার চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি স্থায়ী করে। তাই উপকরণ বিশিষ্ট একটি পাঠ সফল পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়।
কোনো একটি বিষয়ে শিশুর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করার জন্য তাকে একাকী চিন্তার সুযোগ দিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছার সুযোগ করে দিতে হবে।তারপর তার ধারণাকে অন্যদের সাথে শেয়ার করার পর্যাপ্ত সুযোগ প্রদান করে পাঠদানের কাজ পরিচালনা করা প্রয়োজন।
অনেক শিশু তার শরীর ও মনের সমন্বয়ে শিখতে ভালবাসে। বিশেষ করে ব্যবহারিক বা হাতেকলমে শিক্ষার ক্ষেত্রে পাঠদানের সময় শিশুর শরীর ও মন উভয়কেই কাজে লাগাতে এমন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। শিশু তার অস্তিত্ব ও সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করতে ভালোবাসে।তাই সৃষ্টি জগত ও স্রষ্টা নিয়ে আলোচনা করলে শিশু নৈতিক ও আধ্যাত্নিক শিক্ষা লাভ করে।
ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ,
সহকারী শিক্ষক,
আউলিয়াবাদ কমলা গোসাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর, হবিগঞ্জ।
সৌন্দর্য ও ফিটনেসে চিত্র নায়িকা রোজিনার বর্ণাঢ্য পথচলা
বিশ্বের চলচ্চিত্র অঙ্গনে সৌন্দর্যের মহারাণী চিত্র নায়িকা রোজিনা। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। কিন্তু তাকে দেখলে মনে হয়না তাঁর বয়স ত্রিশ - পয়ঁত্রিশ হবে। সদ্য ইউনিভার্সিটি পাশ করা যুবতীর মতো। সৌন্দর্য ও ফিটনেস সচেতন এই মহানায়িকাকে নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন তারকার কথা।
চিত্র নায়িকা রোজিনা ১৯৫৫ সালের ২০ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম রওশন আরা রেণু।
চিত্র নায়িকা রোজিনার রুপালী পর্দায় পদার্পণে একটি বিস্ময়কর ঘটনা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রে আসার তীব্র বাসনা ছিল তাঁর মনে। কিন্তু কোনো সুযোগ পাচ্ছিলেন না।একদিন সংসদ ভবন এলাকায় একটি ছবির শুটিং হচ্ছিল। তিনি দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। ওই সময় একটি দৃশ্যে ড্রিংকস পরিবেশনের জন্য একজন মেয়ের প্রয়োজন হলে উপস্থিতদের মধ্যে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। এভাবে রুপালী পর্দায় পদার্পণ করেন তিনি। এরপর তাঁর আগ্রহ, মেধা ও পরিশ্রমে এ পর্যন্ত এসে নিজেকে মহানায়িকা হিসেবে গৌরবময় আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
১৯৮৪ সালে ভারত - বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র 'অবিচার ' এ মিঠুন চক্রবর্তীর বিপরীতে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন নায়িকা রোজিনা ।১৯ ৮৬ সালে নায়ক নাদিমের সাথে 'হাম সে হায় জামানা'য় অভিনয় করে নিগার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন তিনি।
চিত্র নায়িকা রোজিনার উল্লেখযোগ্য ছায়াছবি হলো - তীর ভাঙা ঢেউ, মাটির মায়া, হারানো মানিক, শহর থেকে দূরে, আয়না, রাজমহল, শীষ নাগ, সোনার চেয়ে দামী, মাটির মানুষ, অভিমান, স্মৃতি তুমি বেদনা, আখেরী নিশান, হুর এ আরব,আনার কলি, মোকাবেলা, রাজনন্দিনী, রাজকন্যা, শাহী দরবার, গাঁয়ের ছেলে, সংঘর্ষ, আলাদীন আলী বাবা সিন্দাবাদ, আল্লাহ মেহেরবান ইত্যাদি।
দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে তিনি চিত্রনায়ক ওয়াসিম, আলমগীর, সোহেল রানা, জসিম, জাফর ইকবাল, উজ্জ্বল, বুলবুল আহমেদ, মাহমুদ কলির মতো খ্যাতিমান নায়কদের বিপরীতে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন। তিনি কিংবদন্তী নায়িকা শাবানা ও ববিতার সাথে অভিনয় করে প্রশংসিত হন।
ভোমরা নিশিতে ফুলের কানে কানে
প্রেমের কথা বলে সংগোপনে,
ফুল ছড়িয়ে ধরে পাপড়ির দল,
ভোমরা চুষে খায় মধুর জল।
ভোমরার ঠোঁটে পরে থাকে ফুলের ঠোঁট,
পাপড়ি নাড়িয়ে ঝাঁকিয়ে হয় মধু লুট।
পৃথিবীর যত জঞ্জাল, যত লেনাদেনা,
মাড়িয়ে আসে মনে তাক ধিন ধিন ধিনা।
কোথায় চন্দ্র, সূর্য, সাগর, মহাসাগর কে জানে?
নাই, নাই কিছু ফুল আর ভোমরা বিনে,
কে জানে কোথায় আছে ঘাসফড়িং আর প্রজাপতি,
হিসেব নিকেশ নাই কোথায় লাভ ক্ষতি।
সব ভুলে মন খোলে মধু লেনদেন,
আজ আর কে বলে - আমায় ছাড়েন?
মধু শুধু পিয়ে যায় মাতাল যাদু,
উতাল- পাতাল হাওয়ায় দোলে ফুলবধূ।
ঝড়ে নামে প্রেমজ্বালা ভোমরার হোলে,
মনখোলা মায়া উঠে ফুলের কোলে।
চোখে জ্বলা আগুন রাঙায় চরম ফাগুন,
এই প্রেম সেই লাগে, দারুণ! দারুণ!
মরমী শিল্পী ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ এর নতুন গান ‘ আমি কার ভরসায় দেব পারি পুলসেরাতের পুল’তার ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত হয়েছে। https://fb.watch/sAfWUD2KyE/ এ লিংকে প্রবেশ করলে গানটি দেখতে পাবেন।






Comments
Post a Comment