প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমরা অনেকেই ক্লাসরুমে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন গল্প শুনতে ভালোবাস। শিক্ষক, সহপাঠী, অন্যকোনো প্রাণী বা বস্তু নিয়ে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক অনেক গল্প রয়েছে। আজকে তোমাদের জন্য থাকছে এ ধরনের একটি গল্প। আশা করি তোমাদের এটি ভালো লাগবে।
আজকের গল্প- কুনো ব্যাঙ
'ওখান থেকে সরে যা, মাশফি। সরে যা, বলছি ', একযোগে বলে তমাল, আলভি ও শাওন।
'না, আমি সরবো না। ওকে তোরা মেরে ফেলতে চাস কেনো? ও কি কোনো অন্যায় করেছে? ' শ্রেণিকক্ষের কোণাটায় বুক ঠেসিয়ে বসে পরে মাশফি।ঠুস- ঠাস শব্দে কিল- ঘুষি পরতে থাকে ওর গায়ে। তবু সে ক্লাসরুমের কোণা ত্যাগ করছেনা। একেবারে যখন আর সহ্য হচ্ছিল না তখন চিৎকার দিয়ে উঠলো মাশফি, ' ও আল্লাহগো! আমাকে মেরে ফেলল '। তখন শাওন বাম হাত দিয়ে ওর চুল মুষ্টি বদ্ধ করে ধরে জোরে একটি কিল দেয়।
হট্টগোল চলছিল শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হওয়ার মিনিট পাঁচেক পূর্ব থেকে।
সোনালী মেডামের প্রথম ক্লাস। তিনি শ্রেণিতে প্রবেশ করে অবাক হয়ে তাকালেন রুমের কোণায়। ' কী হচ্ছে এখানে? মাশফির চিৎকার শুনলাম কিছুক্ষণ আগে। ' ততক্ষণে তমাল,আলভি ও শাওন সরে গিয়েছে। মাশফি তখনও রুমের কোণটা জড়িয়ে বসা।
' কী হয়েছে, মাশফি? এখানে কেন বসে আছ? ' সোনালী মেডাম একথা বলে মাশফির মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।
'উঠো, বাবা উঠো।'
মাশফি উঠে দাঁড়ায়। মেডাম দেখেন, একটি কুনো ব্যঙ বসা। তাঁর আর বুঝার বাকি রইলো না যে, মাশফি এ ব্যঙটিকেই এতক্ষণ বাচাঁতে চেয়ছে।
' ব্যাঙটি কে মারতে চেয়েছিল?', মেডাম হাঁক ছুড়ে বললেন কয়েকবার। একদম স্তব্ধ হয়ে গেল সবাই।
" মাশফি, তুমি বলো। তুমিতো ব্যাঙটি রক্ষা করতে গিয়ে আঘাত সহ্য করেছো?'
তলাল,আলভি ও শাওনের মুখ লাল হয়ে গেল। শাস্তি পাবার ভয়ে ওরা কাঁপতে লাগলো,যদিও মেডাম শারীরিক কোনো শাস্তি দেননা। মাশফির দিকে অসহায়ের মতো ওরা তাকাল।
রুমের একদম পেছন থেকে হাত তুললো ' মেধা' নামের মেয়েটি। মেডাম ওকে সুযোগ দিলেন 'মেধা বলোতো কী হয়েছিল? '
- 'মেডাম, তমাল, আলভি ও শাওন কুনো ব্যাঙটি মারতে চেয়েছিল। মাশফি বাধা দিতে গিয়ে ব্যাঙটির দিকে বুক পেতে রুমের কোণায় বসে পড়ে। '
- 'তমাল, আলভি ও শাওন? দাঁড়াও তোমরা। তোমরা অন্যায় করেছো। প্রাণীদের মধ্যে অত্যন্ত উপকারী একটি প্রাণী কুনো ব্যাঙ। আর কখনো এ কুনো ব্যাঙকে আঘাত করোনা। '
মাথা নিচু করে রাখে ওরা।
'আমাদের ভুল হয়েছে, মেডাম।আর কখনো এমন করবো না। আমাদের ক্ষমা করুন। '
মাশফির কাছে ছুটে এসে ওরা বলল, ' তুমি আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও।
পরের দিন মাশফির খুব জ্বর হলো। স্কুলে আসতে পারলো না।মেডাম মেধার কাছে জানতে চাইলেন মাশফির ব্যাপারে, ' তোমাদের বাড়ি আর মাশফিদের বাড়িতো একই পাড়ায়। ও আসেনি কেন বলতে পার?'
-'মেডাম, ওর খুব জ্বর। '
মেডাম একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন।
বিকেল সাড়ে চারটা বাজে। মাশফির জ্বর কিছুটা কমেছে। ওর মা অনেকক্ষণ ধরে ওর মাথায় পানি ঢেলে দিয়েছিল। গামছা দিয়ে মাথা মুছে শরীরটায় সরিষার তেল মাখিয়ে ম্যাসেজ করেছিল। তাই একটু আরাম পেয়ে ঘুমুচ্ছে। মা বসেছিলেন ওর শিয়রের কাছে।
মায়ের ডাকে ঘুম ডাকে ঘুম ভাঙলো মাশফির। চোখ খোলে দেখে সোনালী মেডাম, তমাল, আলভি, শাওন ও মেধা খাটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।মেডামের হাতে একটি ফলের ব্যাগ। কোনো রকমে শরীরটা তুলে বসলো মাশফি।
- আসসালামু আলাইকুম।
- ওয়ালাইকুমুস সালাম। এখন কেমন লাগছে, বাবা?
-ভালো, মেডাম। আপনি এসেছেন। আমার খুব ভালো লাগছে।মেডাম, ব্যাঙটা কি আছে ক্লাসরুমে?
- আছে, বাবা। ওটাকে আর কেউ ডিস্টার্ব করবেনা।
মাশফির মুখে হাসি ফুটে ওঠে।
সৌন্দর্য ও ফিটনেসে চিত্র নায়িকা রোজিনার বর্ণাঢ্য পথচলা
বিশ্বের চলচ্চিত্র অঙ্গনে সৌন্দর্যের মহারাণী চিত্র নায়িকা রোজিনা। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। কিন্তু তাকে দেখলে মনে হয়না তাঁর বয়স ত্রিশ - পয়ঁত্রিশ হবে। সদ্য ইউনিভার্সিটি পাশ করা যুবতীর মতো। সৌন্দর্য ও ফিটনেস সচেতন এই মহানায়িকাকে নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন তারকার কথা।
চিত্র নায়িকা রোজিনা ১৯৫৫ সালের ২০ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম রওশন আরা রেণু।
চিত্র নায়িকা রোজিনার রুপালী পর্দায় পদার্পণে একটি বিস্ময়কর ঘটনা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রে আসার তীব্র বাসনা ছিল তাঁর মনে। কিন্তু কোনো সুযোগ পাচ্ছিলেন না।একদিন সংসদ ভবন এলাকায় একটি ছবির শুটিং হচ্ছিল। তিনি দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। ওই সময় একটি দৃশ্যে ড্রিংকস পরিবেশনের জন্য একজন মেয়ের প্রয়োজন হলে উপস্থিতদের মধ্যে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। এভাবে রুপালী পর্দায় পদার্পণ করেন তিনি। এরপর তাঁর আগ্রহ, মেধা ও পরিশ্রমে এ পর্যন্ত এসে নিজেকে মহানায়িকা হিসেবে গৌরবময় আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
১৯৮৪ সালে ভারত - বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র 'অবিচার ' এ মিঠুন চক্রবর্তীর বিপরীতে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন নায়িকা রোজিনা ।১৯ ৮৬ সালে নায়ক নাদিমের সাথে 'হাম সে হায় জামানা'য় অভিনয় করে নিগার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন তিনি।
চিত্র নায়িকা রোজিনার উল্লেখযোগ্য ছায়াছবি হলো - তীর ভাঙা ঢেউ, মাটির মায়া, হারানো মানিক, শহর থেকে দূরে, আয়না, রাজমহল, শীষ নাগ, সোনার চেয়ে দামী, মাটির মানুষ, অভিমান, স্মৃতি তুমি বেদনা, আখেরী নিশান, হুর এ আরব,আনার কলি, মোকাবেলা, রাজনন্দিনী, রাজকন্যা, শাহী দরবার, গাঁয়ের ছেলে, সংঘর্ষ, আলাদীন আলী বাবা সিন্দাবাদ, আল্লাহ মেহেরবান ইত্যাদি।
দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে তিনি চিত্রনায়ক ওয়াসিম, আলমগীর, সোহেল রানা, জসিম, জাফর ইকবাল, উজ্জ্বল, বুলবুল আহমেদ, মাহমুদ কলির মতো খ্যাতিমান নায়কদের বিপরীতে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন। তিনি কিংবদন্তী নায়িকা শাবানা ও ববিতার সাথে অভিনয় করে প্রশংসিত হন।
ভোমরা নিশিতে ফুলের কানে কানে
প্রেমের কথা বলে সংগোপনে,
ফুল ছড়িয়ে ধরে পাপড়ির দল,
ভোমরা চুষে খায় মধুর জল।
ভোমরার ঠোঁটে পরে থাকে ফুলের ঠোঁট,
পাপড়ি নাড়িয়ে ঝাঁকিয়ে হয় মধু লুট।
পৃথিবীর যত জঞ্জাল, যত লেনাদেনা,
মাড়িয়ে আসে মনে তাক ধিন ধিন ধিনা।
কোথায় চন্দ্র, সূর্য, সাগর, মহাসাগর কে জানে?
নাই, নাই কিছু ফুল আর ভোমরা বিনে,
কে জানে কোথায় আছে ঘাসফড়িং আর প্রজাপতি,
হিসেব নিকেশ নাই কোথায় লাভ ক্ষতি।
সব ভুলে মন খোলে মধু লেনদেন,
আজ আর কে বলে - আমায় ছাড়েন?
মধু শুধু পিয়ে যায় মাতাল যাদু,
উতাল- পাতাল হাওয়ায় দোলে ফুলবধূ।
ঝড়ে নামে প্রেমজ্বালা ভোমরার হোলে,
মনখোলা মায়া উঠে ফুলের কোলে।
চোখে জ্বলা আগুন রাঙায় চরম ফাগুন,
এই প্রেম সেই লাগে, দারুণ! দারুণ!
মরমী শিল্পী ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ এর নতুন গান ‘ আমি কার ভরসায় দেব পারি পুলসেরাতের পুল’তার ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত হয়েছে। https://fb.watch/sAfWUD2KyE/ এ লিংকে প্রবেশ করলে গানটি দেখতে পাবেন।




Comments
Post a Comment