Skip to main content

শিশুর বিকাশ ও প্রসঙ্গ কথা

 শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশই হলো প্রাথমিক শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। দৈহিক, মানসিক, শারীরিক, সামাজিক, আবেগিক, আধ্যাত্নিক ও নৈতিক বিকাশ ব্যতীত শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ সাধিত হয়না। তাই তার সার্বিক বিকাশের ব্যবস্থা রেখেই শিখন- শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করা সমীচীন। 

বিদ্যালয়ে শিশুর মানসিক বিকাশের পাশাপাশি অন্যান্য বিকাশ যাতে পরিমিতভাবে হয় সেজন্য সহ-পাঠক্রমিক কার্যাবলির ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। বিভিন্নরকম খেলাধূলায় অংশগ্রহণের নিয়মিত সুযোগ শিশুদেরকে করে দিতে হবে। শ্রেণির রুটিনকে সেভাবেই সাজাতে হবে। 

শিশু যতই মেধাবী হোক সে যদি শারীরিকভাবে সুস্থ ও নীরোগ না  থাকে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতি বিনির্মাণে পর্যাপ্ত শ্রম দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হবেনা। তাই তার শরীর ও মন সুস্থ রাখার জন্য বিদ্যালয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট খেলাধূলা ও শরীরচর্চার সুযোগ রাখতে হবে এবং শিক্ষকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে সেই সময়টা পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।

 শিশুর সামাজিক ও আবেগিক বিকাশের জন্য বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র ইউনিট  গঠন করে বিভিন্ন কার্যক্রমের নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়ে তাদেরকে মনিটরিং ও মেনটরিং করা প্রয়োজন। এতে  বিদ্যালয়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন সহজ ও সার্থক হবে।

প্রতিটি শিশুর রয়েছে নিজস্ব সত্তা। সেই সত্তার বিকাশের জন্য  বিদ্যালয়ে সংগীত, আবৃত্তি, নাটক, অভিনয়, নৃত্য, চিত্রকলা, বিতর্ক ইত্যাদি আয়োজনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের যথেষ্ট আন্তরিকতা থাকা লাগবে। শিশুর সুপ্ত মানবিক গুণাবলি বিকাশের জন্য তার প্রতি সম্মানজনক ও স্নেহপূর্ণ দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করা চাই।তার ইচ্ছা, আবেগ, অনুভূতি  ও সামর্থ্যকে প্রাধান্য দিয়ে অত্যন্ত কৌশলে তার শিখনকে ত্বরান্বিত করতে হবে।

ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ 
সহকারী শিক্ষক 
আউলিয়াবাদ কমলা গোসাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মাধবপুর, হবিগঞ্জ। 

সৌন্দর্য ও ফিটনেসে চিত্র নায়িকা রোজিনার বর্ণাঢ্য পথচলা


বিশ্বের চলচ্চিত্র অঙ্গনে সৌন্দর্যের মহারাণী চিত্র নায়িকা রোজিনা। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। কিন্তু তাকে দেখলে মনে হয়না তাঁর বয়স ত্রিশ - পয়ঁত্রিশ হবে। সদ্য ইউনিভার্সিটি পাশ করা যুবতীর মতো। সৌন্দর্য ও ফিটনেস সচেতন এই মহানায়িকাকে নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন তারকার কথা। 

চিত্র নায়িকা রোজিনা ১৯৫৫ সালের ২০ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম রওশন আরা রেণু। 


চিত্র নায়িকা রোজিনার রুপালী পর্দায় পদার্পণে একটি বিস্ময়কর ঘটনা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রে আসার তীব্র বাসনা ছিল তাঁর মনে। কিন্তু কোনো সুযোগ পাচ্ছিলেন না।একদিন সংসদ ভবন এলাকায় একটি ছবির শুটিং হচ্ছিল। তিনি দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। ওই সময় একটি দৃশ্যে ড্রিংকস পরিবেশনের জন্য একজন মেয়ের প্রয়োজন হলে উপস্থিতদের মধ্যে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। এভাবে রুপালী পর্দায় পদার্পণ করেন তিনি। এরপর তাঁর আগ্রহ, মেধা ও পরিশ্রমে এ পর্যন্ত এসে নিজেকে মহানায়িকা হিসেবে গৌরবময় আসনে  প্রতিষ্ঠিত করেছেন। 

১৯৮৪ সালে ভারত - বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র 'অবিচার ' এ মিঠুন চক্রবর্তীর বিপরীতে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন নায়িকা রোজিনা ।১৯ ৮৬ সালে নায়ক নাদিমের সাথে 'হাম সে হায় জামানা'য় অভিনয় করে নিগার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন তিনি। 


চিত্র নায়িকা রোজিনার উল্লেখযোগ্য ছায়াছবি হলো - তীর ভাঙা ঢেউ, মাটির মায়া, হারানো মানিক, শহর থেকে দূরে, আয়না, রাজমহল, শীষ নাগ, সোনার চেয়ে দামী, মাটির মানুষ, অভিমান, স্মৃতি তুমি বেদনা, আখেরী নিশান, হুর এ আরব,আনার কলি, মোকাবেলা, রাজনন্দিনী, রাজকন্যা, শাহী দরবার, গাঁয়ের ছেলে, সংঘর্ষ, আলাদীন আলী বাবা সিন্দাবাদ, আল্লাহ মেহেরবান ইত্যাদি। 

দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে তিনি চিত্রনায়ক ওয়াসিম, আলমগীর, সোহেল রানা, জসিম, জাফর ইকবাল, উজ্জ্বল, বুলবুল আহমেদ, মাহমুদ কলির মতো খ্যাতিমান নায়কদের বিপরীতে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন। তিনি কিংবদন্তী নায়িকা শাবানা ও ববিতার সাথে অভিনয় করে প্রশংসিত হন।

মধু লেনদেন


ভোমরা নিশিতে ফুলের কানে কানে 

প্রেমের কথা বলে সংগোপনে,

ফুল ছড়িয়ে ধরে পাপড়ির দল,

ভোমরা চুষে খায় মধুর জল। 


ভোমরার ঠোঁটে পরে থাকে ফুলের ঠোঁট, 

পাপড়ি নাড়িয়ে ঝাঁকিয়ে হয় মধু লুট।

পৃথিবীর যত জঞ্জাল, যত লেনাদেনা, 

মাড়িয়ে আসে মনে তাক ধিন ধিন ধিনা।

কোথায় চন্দ্র, সূর্য, সাগর, মহাসাগর কে জানে? 

নাই, নাই  কিছু ফুল আর ভোমরা বিনে,

কে জানে কোথায় আছে ঘাসফড়িং আর প্রজাপতি, 

হিসেব নিকেশ নাই কোথায় লাভ ক্ষতি।

সব ভুলে মন খোলে মধু লেনদেন, 

আজ আর কে বলে - আমায় ছাড়েন? 


মধু শুধু পিয়ে যায় মাতাল যাদু,

উতাল- পাতাল হাওয়ায় দোলে ফুলবধূ।

ঝড়ে নামে প্রেমজ্বালা ভোমরার হোলে, 

মনখোলা মায়া উঠে ফুলের কোলে। 

চোখে জ্বলা আগুন রাঙায় চরম ফাগুন, 

এই প্রেম সেই লাগে, দারুণ! দারুণ!



মরমী শিল্পী ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ এর নতুন গান ‘ আমি কার ভরসায় দেব পারি পুলসেরাতের পুল’তার ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত হয়েছে।     https://fb.watch/sAfWUD2KyE/  এ লিংকে প্রবেশ করলে গানটি দেখতে পাবেন।

ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ একজন গীতিকার, কবি ও নাট্যকার। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি লিখে চলেছেন। তার লেখা প্রথম কবিতা অভিলাষ ১৯৯৫ সালে দৈনিক ইনসাফ বার্তায় প্রকাশিত হয়।
১৯৯৫ সালের গোড়ার দিকে তিনি হবিগঞ্জ সমাচার পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন।এময় দৈনিক আল মুজাদ্দেদ পত্রিকায় তিনি প্রবন্ধ লিখতে থাকেন। 

১৯৯৮ সালে হবিগঞ্জ থেকে প্রকাশিত স্বাধিকার পত্রিকায় তিনি মাধবপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ দুই বছর তিনি এতে লেখালেখি করেন। 

২০০০ সালে কুলাউড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক মানব ঠিকানায় তিনি সাংবাদিকতা করেন। ২০০২ সাল থেকে  দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকায় তার ছড়া ও নিবন্ধ প্রকাশিত হতে শুরু করে।

দীর্ঘদিন বিরতির পর ২০১০ সালে তার শ্রেণিভিত্তিক লেখা দৈনিক ইত্তেফাকের অনুশীলন বিভাগে প্রকাশিত হয়। 

এরপর লেখালেখিতে আবারও বিরতি দেন। ২০২২ সালে আবার লেখালেখি শুরু করেন দৈনিক ইত্তেফাকের অনুশীলন পাতায় । 

বর্তমানে তিনি অনেক স্বরচিত গান গেয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় আপলোড দিচ্ছেন। 

Comments

সাম্প্রতিক খবর

'রুম টু রীড ' এর ' শিক্ষিত শিশু বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা'

  'রুম টু রীড ' এর ' শিক্ষিত শিশু বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা' 'রুম টু রীড ' একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা যা ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন  থেকে সংস্থাটি শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়ন এবং পাঠ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে স্বাক্ষরতা কর্মসূচি এবং মেয়ে শিশুদের শিক্ষা সহায়তা নিয়ে এ সংস্থাটি কাজ করছে। বর্তমানে বিশ্বের ২৯টি দেশে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। সংস্থাটি সেসব দেশের মাতৃভাষার স্বাধীন -সাবলীল পাঠক তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।  ২০০৯ সালে 'রুম টু রীড '  বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। এটি বাংলা ভাষায় শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো - বিদ্যালয় ভিত্তিক পাঠাগার স্থাপন ও বইপড়া কর্মসূচি।  শিশুরা নিজের মাতৃভাষায় যাতে পঠন দক্ষতা অর্জন করতে পারে সে লক্ষ্যে 'রুম টু রীড ' ছাপা সমৃদ্ধ শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করছে। পাঠাগার কেন্দ্রিক এ ছাপা সমৃদ্ধ শিখন পরিবেশ দক্ষ পাঠক তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এতে নবীন -প্রবীণ লেখকদের বিভিন্ন গল্...