একজন মানুষের অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধকে ব্যক্তি,পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে নিয়োজিত করার জন্য যে বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন তা হলো নৈতিক শিক্ষা। এ শিক্ষা মূলত মায়ের ক্রোড় থেকেই শুরু হয়ে যায়। আরো গভীরভাবে বলতে গেলে তা শুরু হয় বাবা মায়ের বিশেষ মিলনের পর যখন ভ্রুণ মাতৃগর্ভে সঞ্চারিত হয় তখন থেকেই। এ বিষয়ে অনেক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে।
মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শিশু মায়ের আচার-আচরণ দ্বারা প্রভাবিত ও বিকশিত হয়।এজন্যই মহামানব ও মনোবিশারদগণ মা গণকে গর্ভকালীন সময়ে সৃষ্টিকর্তাকে প্রতিনিয়ত স্মরণ করার উপদেশ দিয়েছেন। মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শিশুর মজ্জাগত বিকাশ সাধন শুরু হয়ে যায়।
জেড এইচ শিকদার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মানসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: ফাহমিদা ফেরদৌস এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৯১১ তম পর্বে বলেন,মায়ের মন ( গর্ভকালীন) যদি ভালো থাকে তাহলে শিশুর মানসিক গঠন এমনিই ভালো হবে।
আমরা চাই সুস্থ, সবল, মেধাবী ও নৈতিক গুণাবলির অধিকারী শিশু। কারণ শিশুরই জাতির আগামী কর্ণধার। নৈতিক দিক দিয়ে আদর্শবান মানুষ পেতে হলে শিশুর মাতৃগর্ভে আগমনের সময় থেকেই আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর এ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে হবে শিক্ষক ও সচেতন সকল নাগরিককে।
শিক্ষকগণকে অভিভাবক সমাবেশে একজন গর্ভবতী নারীর যত্ন নেয়া এবং জন্মের পরবর্তী সময়ে শিশুর প্রতি করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করা প্রয়োজন।
শিক্ষাঙ্গনে শিশুদের নৈতিক ও আধ্যাত্নিক শিক্ষায় উজ্জীবিত করা সহজ কাজ নয়। কারণ চারিদিকে অনৈতিক ও অসাধু কাজ এমনভাবে ছড়িয়ে আছে যা থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখা অত্যন্ত কঠিন। বিদ্যলয়ের পাঠদান, সহ- পাঠ ক্রমিক কার্যাবলি, পরিষ্কার -পরিচ্ছন্নতা, পরীক্ষা, ফলাফল, উপবৃত্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রে সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার দৃশ্যমান নজির স্থাপন করতে না পারলে শুধু নৈতিক শিক্ষার জন্য কিছু গল্প বা ভাষণ শিশুর কল্যাণ সাধনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেনা।
শিশুরা সাধারণত দেখে শিখে, কাজের মাধ্যমে শিখে। বিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, ন্যায্যতা ও সাম্যের চর্চা করে শিশুকে নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা সহজ হবে ।



Comments
Post a Comment