মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা কমছেই না। যুগযুগ ধরে চলা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংকটের মুখে দিন দিন অশান্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে ফিলিস্তিন, লেবানন ও ইয়ামেন। এখন ইরান যুক্ত হয়েছে এ দেশগুলোর নেতৃত্বের ভূমিকায়। ইসরাইলী বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে লাখ লাখ লোক। গৃহহারা হয়ে উদ্বাস্তু হয়েছে আরো কয়েক লাখ মানুষ।
বিংশ শতাব্দীর শেষের দশকে ইরাকের কুয়েত দখলকে কেন্দ্র করে এবং পরমাণু অস্ত্র থাকার অজুহাতে আমেরিকার নেতৃত্বে সাদ্দাম বিরোধী জোটের সামরিক তৎপরতায় ইরাকি জনগণের উপর নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। লাখ লাখ নারী -পুরুষের জীবনহানি ঘটে। ধ্বংস হয় অনেক স্থাপত্য ও প্রতিষ্ঠান।
তখন অভ্যন্তরীণ জাতিগত সংঘাতে প্রাণ হারায় হাজার হাজার লোক। ইরাকি সাধারণ জনগণ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। হসপিটালগুলোতে হামলায় মারা যায় অসংখ্য লোক। সাদ্দাম পরিবারের সদস্যরা হামলা, মামলা ও ফাঁসির শিকার হন।সাদ্দাম হোসেনকে ঈদের দিনে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সংকট ঘনীভূত করে তুলছে ইসরায়েল- ফিলিস্তিন যুদ্ধ। এ যুদ্ধকে ঘিরে এখন লেবানন ও ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েল রাষ্ট্রকে গোড়া থেকেই সাহায্য- সহযোগিতা, সমর্থন ও প্রশ্রয় দিয়ে আসছে আমেরিকা। বিশ্বের অধিক দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও আমেরিকা এর পাশে একপায়ে দাঁড়িয়ে আছে।
মুসলমানদের সারাবিশ্বে মার খাওয়ার কারণ কী এ প্রশ্ন আলোচনায় আসলে দেখা যাবে, পারিবারিক ও সামাজিক সংকটের কবলে দীর্ঘদিন নিপতিত থাকা অবস্থায় মুসলিম সমাজ মূলত গোড়া থেকেই অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়ে আসছে।
মুসলিম সমাজের পারিবারিক ও সামাজিক ঐক্য ছিল প্রবল। ছিল শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু বিজাতীয় চক্রান্তের কবলে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে মুসলিম সমাজ। তাদের সন্তান -সন্ততি ও পরিবার - পরিজনের মধ্যে অপসংস্কৃতি ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বিভিন্ন নাস্তিক্যবাদী শিক্ষা ও দর্শনের মাধ্যমে। ফলে ধীরে ধীরে মুসলমানদের মধ্যে বিভিন্ন মেজাজ ও প্রকৃতির লোক তৈরি হতে থাকে। আর এ লোকগুলো নিজেরাই পারস্পরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
ইসলামের ভিত্তি কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ নিয়ে শুরু থেকেই দ্বন্দ্ব ও বিতর্ক তৈরি হতে থাকে। যার ফলে মুসলিম সমাজ অনৈক্যের কবলে পড়ে নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনে।অথচ মুসলমানদের নবী এক, কুরআন এক,কেবলা কাবা এক ও অভিন্ন। তবু তাদের মধ্যে ধর্মীয় লেবাসে লুকিয়ে থাকা দৃশ্যমান পরহেজগাররুপী ব্যাক্তিদের চক্রান্তে সাধারণ মুসলমানরা ধোকা খেয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এতে করে শিয়া, সুন্নী,ওহাবী,খারেজী, মুতাযিলা,রাফেজী, হানাফি, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী, আহলে হাদীস, বেদাতী ইত্যাদি ধরা -উপধারা তৈরি হয়।
মুসলমানদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই ফিলিস্তিন সংকটকে তীব্রতর করেছে। আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ফাটলকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েল নিজেকে সুসংহত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের মুসলমানদের আকীদাগত দ্বন্দ্বের কারণে আজ জীবন দিতে হচ্ছে লাখ লাখ নারী- পুরুষকে।
ফিলিস্তিন সমগ্র বিশ্বের সমর্থন লাভ করলেও কার্যত বড়ই একা। না আছে মধ্যপ্রাচ্যে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র, না আছে বহির্বিশ্বে।ইরান এগিয়ে এসে তাদের সহযোগিতা করলেও লেবানন ব্যতীত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ মূলত আকীদাগত দ্বন্দ্বের কারণে ইরানের পাশে অন্তরখোলে দাঁড়াচ্ছেন না।আর এই সুবিধা ভোগ করছে ইসরায়েল। গ্রাস করছে লেবানন - ফিলিস্তিনের মাটি।
শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সারাবিশ্বে মুসলমানদের আকীদাগত বা তরীকাগত দ্বন্দ্বের কারণে তারা অশান্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে। মুসলমানদের একদল অন্য দলকে কাফের, বাতেল, ওহাবী, বিদাতী ইত্যাদি বলে ফতোয়া দিয়ে থাকে। এই অনৈক্যের সুযোগে ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী তাদের পথ সুগম পেয়ে সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে। নিপীড়িত মুসলিমরা শিক্ষা, অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠায় পিছিয়ে পড়েছে। এমনকি সুন্নী, ওহাবী, রেজভী,দেওবন্দী, শিয়া, বেদাতী ইত্যাদি মতভেদের কারণে পারিবারিক কলহ ও সংঘাত ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েই চলছে। নবিজী (সা) নুরের তৈরি না মাটির তৈরি সেই দ্বন্দ্বেও সামাজিক কলহ ও বিতর্ক হচ্ছে। প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটছে।
মুসলমানদের অনৈক্যের সংকট একদিনেই গড়ে উঠেনি। যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী চলমান অনৈক্য মূলত তাদের অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে। সাধারণ মুসলমানরা বার বার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন তরীকা ও আকীদার আলেমগণের পারস্পরিক দোষাদোষী ও কাদা ছুড়াছুঁড়ির কারণে অনৈক্য একটি সুসংহত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেছে।
সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন গ্রেফতার
সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্দপুর থানা পুলিশ। তাকে ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ডিএমপির মিডায়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ- কমিশনার মো: তালেবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন
শহীদ ফারহান ফাইয়াজকে লেখা খালামণির চিঠি
আরও পড়ুন:
সিলেট বিভাগে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান
আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োজিত কর্মচারীদের শাহবাগ অবরোধ
English Language Club এ সদস্য ভর্তি চলছে
আগামীকাল মাধবপুর আসছেন ড আহমদ আবদুল কাদের
বিষয়ভিত্তিক বাংলা প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে
সৌন্দর্য ও ফিটনেসে চিত্র নায়িকা রোজিনার বর্ণাঢ্য পথচলা
সিলেট বিভাগে শ্রেষ্ঠ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার কবি রফিকুল নাজিম
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোন পথে এগুচ্ছে?
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিগত আগস্ট বিপ্লবের পরপরই সংঘটিত বন্যায় ত্রাণ তৎপরতায় অংশগ্রহণ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে চালু করেন গণত্রাণ কর্মসূচি। তখন বিশ্ববাসীবাকি অংশটুকু পড়তে এখানে ক্লিক করুন
দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফর শেষে ২৫ অক্টোবর দেশে ফিরে আসেন। রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছেবাকি অংশটুকু পড়তে এখানে ক্লিক করুন







Comments
Post a Comment