শিশুর রয়েছে অজানাকে জানার অদম্য কৌতুহল। সে তার পরিবেশে যা দেখে তা নিয়েই ভাবতে থাকে। কোনো বস্তু কখন কী কাজে লাগে এমন প্রশ্ন তার মনে ঘুরপাক খায়।তাই সে তার পিতামাতা, ভাইবোন ও সহপাঠীদের কাছ থেকে অচেনাকে চিনতে উদগ্রীব থাকে। তার এ আগ্রহ শিখনকে করে তরান্বিত।
শিশুর আগ্রহী ও কৌতুহলী মানসকে বিকশিত করার জন্য শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। তার আবেগ - অনুভূতিকে উপলব্ধি করা হলো শিক্ষকের প্রথম ও প্রধান কাজ। শিক্ষক যাকে নিয়ে কাজ করবেন তার আচার- আচরণ , অভ্যাস, মেধা ও সামর্থ্যকে ভালোমতো জানতে হবে। এতে শিশুর বিকাশ সাধনে কোন কোন কর্মপন্থা অবলম্বন করা প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা শিক্ষকর জন্য সহজ হবে।
একটি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষদের সন্তানরা পাঠ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে থাকে। তাই শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে বৈচিত্র্যময় পাঠ উপস্থাপন করা অপরিহার্য।
একটি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরির শিক্ষার্থী থাকে। তাই তাদেরকে শিক্ষাদান করা সহজ কাজ নয়।সকল ধরণের শিশুরা যাতে একটি পাঠ থেকে শিখতে পারে সে লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ও বৈচিত্র্যময় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
শিশুরা নানা উপায়ে শিখে। কেউ মৌখিকভাবে মুখস্থ করে শিখে, কেউ প্রয়োজনে যৌক্তিক কারণে শিখে, কেউ শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় বা ছন্দের তালে তালে শিখে। প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও খেলাচ্ছলে শিক্ষা শিশুর জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হয়।একাকী চিন্তা, দলীয় বা জোড়ায় আলোচনা, হাতে কলমে শিক্ষা অর্জনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
পাঠে অভিনয়, আবৃত্তি, পাঠ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খেলা,সংগীত, নৃত্য ইত্যাদির অন্তর্ভুক্তি করতে পারলে শিখন-শেখানো কার্যক্রম আশানুরূপ ফলপ্রসূ হয়।শ্রেণি কার্যক্রম সফল ও সার্থক করার জন্য বৈচিত্র্যময় শিখন-শিখানো কার্যক্রম যেমন পাঠের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহকে বাড়িয়ে দেয় তেমনি শিক্ষকেরও একঘেয়েমি দূর করে। পাঠ উপস্থাপন হয় আনন্দময়। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠে।
Comments
Post a Comment