Skip to main content

সফল পাঠদানের জন্য শিক্ষকের পূর্ব প্রস্তুতির গুরুত্ব

 


কোনো কাজ সুন্দর ও সফলভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন একটি পূর্ব পরিকল্পনা।  একটি শ্রেণিকক্ষে সফল পাঠদানের জন্য শিক্ষকের পূর্ব প্রস্তুতি বা পূর্ব পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হুট করে একটি কাজ শুরু করে দিলে তা সুসম্পাদিত হয়না। কাজের ক্ষেত্রে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় এবং তা দূর করতে গিয়ে সময় ক্ষেপণ হয়। এমনকি গুরুতর সমস্যার ক্ষেত্রে কাজটিও থমকে দাঁড়ায় ।  সময় ও অর্থ অপচয় হয়।কিন্তু একটি কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে তাতে সম্ভাব্য সমস্যাসমূহ ভাবা হয় এবং তা দূরীকরণের উপায়সমুহ নির্ণয় করে রাখা হয়। এতে কাজটি এগিয়ে যায়। 


একটি শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরির শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মেধা ও পারদর্শিতা সমান নয়।  শিক্ষার্থীর বয়স,মেধা ও যোগ্যতা বিবেচনা করে একজন শিক্ষক শ্রেণিতে পাঠদান করে থাকেন। আর সে পাঠদানকে অর্থবহ করার জন্য তিনি যে পূর্ব পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তাকে পাঠ পরিকল্পনা বলে। এই পরিকল্পনাকে তিনি সংক্ষেপে তার ডায়রি, নোটবুক বা কাগজে লিখে রাখেন। পরিকল্পনার লিখিত এ সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয় পাঠটীকা। 


পাঠটীকা করার জন্য একজন শিক্ষককে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। একটি পাঠকে প্রাণবন্ত করতে  যে বিশেষ  ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয় সেগুলো তুলে ধরা হলোঃ

 ১.শিখনের উদ্দেশ্য ও শিখনফল নির্ধারণঃ 

শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের কী শিখতে সহায়তা করতে চান তা অর্থাৎ  শিখনফল নির্ধারণ করবেন। এ শিখনফলগুলো হবে   সুনির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট,   নির্ভরযোগ্য, পরিমাপযোগ্য , সময়াবদ্ধ ও অর্জনযোগ্য। এ শিখনফলগুলো পাঠটীকায় উল্লেখ থাকবে।


২.বিষয়বস্তু অনুধাবনঃ

শিক্ষক যে বিষয়ে পাঠদান করবেন সে বিষয় সম্পর্কে খুটিনাটি  অধ্যয়ন করবেন।  বিষয় সংশ্লিষ্ট পাঠ্য বই,রেফারেন্স বই,প্রবন্ধ- নিবন্ধ ও গবেষণাসমূহ পড়ে দেখবেন এবং  প্রয়োজনীয়  তথ্য - উপাত্ত গ্রহণ করবেন। 


৩.শেয়ারিং বা পারস্পরিক মতবিনিময়ঃ

 বিষয়বস্তুর অনুধাবন আরো পাকাপোক্ত করার জন্য সহকর্মীদের সাথে পারস্পরিক মতবিনিময় করে নেওয়া খুবই উপকারী। এতে ঘাটতিসমূহ পূরণ করা সম্ভব। এ জন্য শ্রণিঘন্টার বিরতিতে অথবা একত্রে চায়ের টেবিলে শেয়ারিং হতে পারে প্রধান আলোচ্য বিষয়। সহকর্মীগণ বিরক্তিবোধ করলে তাদেরকে ক্রমান্বয়ে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। এরুপ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো গুগল বা ইউটিউব থেকে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা শুনে নেওয়া। এখন অনলাইনে প্রায় সবগুলো পাঠ্য বিষয়ে বিভিন্ন কলিগদের আলোচনা পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। 

 

৪.উপস্থাপন কৌশলঃ

 কোন একটি পাঠ কোন পদ্ধতিতে বা কী কী কৌশল প্রয়োগ করে উপস্থাপন করতে হবে তা মূলত বিষয়বস্তু বা শিক্ষার্থীদের অভিরুচির ভিত্তিতে হতে হবে। একজন শিক্ষককে জানতে হবে তার শিক্ষার্থীরা কোনপন্থা অবলম্বন করলে শিখতে পারে। পাঠদান হবে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। শিক্ষার্থীদেরকে পাঠে   যত বেশি ইনভলভ বা নিযুক্ত করা যাবে ততবেশী পাঠদান সফল হবে। পাঠদানের জন্য এ পর্যন্ত অনেক পদ্ধতির উদ্ভাবন  হয়েছে। যেমন, বক্তৃতা, আলোচনা, প্রশ্নোত্তর, গল্পবলা, পরীক্ষণ,পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকারের তত্বাবধানে শিখন- শেখানো পদ্ধতি নিয়ে নতুন গবেষণায় নবতর ধারণা বা পদ্ধতি বিস্তার লাভ করছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে বেশকিছু নবতর ধারণা বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কর্মবীর, ক্লাসপার্টি, আমার স্বপ্ন আমার বিদ্যালয়, মোবাইল মাসী অন্যতম।

কোনো একটি পাঠ শুধু একটি পদ্ধতিতেই নয় বরং বহুমুখী পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা যায়। এতে সকল শিক্ষার্থী উপকৃত হয়ে থাকে।


৫ অনুশীলন কৌশল নির্ধারণঃ

একটি পাঠ উপস্থাপন করার পর   তা শিক্ষার্থীদের হৃদয়ঙ্গম করতে সহযোগিতা করার জন্য অনুশীলন করানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে বিষয়বস্তুর আলোকে কতগুলো কার্যক্রম সম্পাদন করতে হয়। এগুলো হতে পারে- সঠিক উত্তর, সত্য- মিথ্যা, শূণ্যস্থান পূরণ, মিলকরণ, শুদ্ধ -অশুদ্ধ, সমার্থকশব্দ, বিপরীত শব্দ,  সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, শ্রুতিলিখন, ব্যাখ্যাদান ইত্যাদি। 

একটি পাঠের অনুশীলনের জন্য শিক্ষককে তুলনামূলক ভাবে বেশি সময় প্রদান করতে হয়। এ ধাপে শিক্ষার্থীদের ভূমিকাই মুখ্য। এখানে কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য জোড়ায় ও দলীয় কাজের অপার সুযোগ রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। 


৬.মূল্যায়ন কৌশলঃ

সাধারণত মূল্যায়ন অনুশীলন ধাপ থেকেই শুরু হয়ে থাকে। তবে সেখানে পারস্পরিক মতবিনিময় করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের আলাদা মূল্যায়ন করার সুযোগ সীমাবদ্ধ থাকে। তাই প্রতিটি শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন করা বা শিখনফল যাচাইয়ের লক্ষ্যে একাকী কাজ সম্পাদনের জন্য উপস্থাপিত পাঠের আলোকে পাঠ্যাংশের  অনুরূপ বিষয়  সম্পর্কে কিছু বলতে বা লিখতে বলা হয়ে থাকে। যেমন, সৈকত নামক একটি ছেলের পরিবার সম্পর্কে পাঠ উপস্থাপন ও অনুশীলনের পর শিক্ষার্থীকে নিজ পরিবার অথবা তার কোনো সহপাঠীর পরিবার সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ লিখতে বলা হয়ে থাকে। 


৭.পাঠের সময় বিভাজনঃ

পাঠ পরিকল্পনার সময় প্রতিটি ধাপে সময়কে ধাপের গুরুত্ব অনুযায়ী বিভাজন করে নিতে হবে। এতে সময়ের কাজ সময়ে শেষ হবে। 


একটি পাঠ সফল ও সার্থক করতে পাঠ পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক তার চাহিদার আলোকে যে কোনো পদ্ধতিতে পাঠ পরিকল্পনা করতে পারবেন। কিন্তু কিছু পরীক্ষিত পাঠ পরিকল্পনার মডেল রয়েছে যেগুলো তিনি ব্যবহার করতে পারেন। যেমন, MWTL, IPT, কর্মবীর ইত্যাদি।

ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ, 

সহকারী শিক্ষক,

আউলিয়াবাদ কমলা গোসাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,

মাধবপুর, হবিগঞ্জ। 


Comments

সাম্প্রতিক খবর

'রুম টু রীড ' এর ' শিক্ষিত শিশু বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা'

  'রুম টু রীড ' এর ' শিক্ষিত শিশু বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা' 'রুম টু রীড ' একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা যা ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন  থেকে সংস্থাটি শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়ন এবং পাঠ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে স্বাক্ষরতা কর্মসূচি এবং মেয়ে শিশুদের শিক্ষা সহায়তা নিয়ে এ সংস্থাটি কাজ করছে। বর্তমানে বিশ্বের ২৯টি দেশে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। সংস্থাটি সেসব দেশের মাতৃভাষার স্বাধীন -সাবলীল পাঠক তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।  ২০০৯ সালে 'রুম টু রীড '  বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। এটি বাংলা ভাষায় শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো - বিদ্যালয় ভিত্তিক পাঠাগার স্থাপন ও বইপড়া কর্মসূচি।  শিশুরা নিজের মাতৃভাষায় যাতে পঠন দক্ষতা অর্জন করতে পারে সে লক্ষ্যে 'রুম টু রীড ' ছাপা সমৃদ্ধ শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করছে। পাঠাগার কেন্দ্রিক এ ছাপা সমৃদ্ধ শিখন পরিবেশ দক্ষ পাঠক তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এতে নবীন -প্রবীণ লেখকদের বিভিন্ন গল্...