একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি জ্ঞানভিত্তিক দক্ষ সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো নবতর ধ্যানধারণা প্রয়োগ করে চলছে। এ ক্ষেত্রে একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিজস্ব জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি কাজে লাগিয়ে দুর্বার প্রচেষ্টা চালিয়ে দৃপ্ত শপথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের 'Aspire to Innovate ' বা 'এটু আই'( https://a2i.gov.bd/) এর সহযোগিতায় প্রতিটি সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান বিদ্যামান সেবা প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা যাচাইয়ের পর তা হালনাগাদ করছে অথবা সেবার মানকে আরো উন্নত করার জন্য নতুন প্রক্রিয়া গ্রহণ করছে যা জাতিকে সময় ও অর্থ অপচয় এবং দুর্নীতি, হয়রানি, ঘুষ ইত্যাদি থেকে রক্ষা করছে। মানুষের মনে জাগিয়ে তুলছে আশার আলো। অনলাইন ভূমি ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রকার লাইসেন্স ও রেজিষ্ট্রেশন, দাপ্তরিক যোগাযোগ, ডাটাবেইজ ইত্যাদির জন্য সরকারি নাগরিক সেবায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। কমে এসেছে হয়রানি, দুর্নীতি ও অপচয়। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা দপ্তরগুলোর বিভিন্ন কাজে আশানুরূপ গতিশীলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিখন শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষেত্রে বিদ্যামান পদ্ধতিতে যুক্ত নবতর ধ্যানধারণার পাশাপাশি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করছে বিভিন্ন অনলাইন টুলস। বিশেষ করে করোনার ভয়াবহ থাবার প্রকোপকালীন সময়ে পাঠ কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অনলাইন টুলস শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জীবনে একটা বিরাট সুযোগের দ্বার উন্মোচিত করেছে।
করোনা শুরু হওয়ার বছর তিনেক আগেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের(www.dpe.gov.bd)অধীনে বেশ কয়েকটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ শুরু হয়। এর মধ্যে বাছাইকৃত ৩০ টি নিয়ে ২০১৮ সালের ২৪ ও ২৫ জুন আয়োজন করা হয় ইনোভেশন সোকেশিং। তার পূর্বেই আইডিয়া বক্স খোলে উদ্ভাবনী ধারণা আহবান করা হয়। এতে প্রাথমিক শিক্ষার কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পরে। অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের ধারণা আইডিয়া বক্সে জমা হতে থাকে। তবে ২৪ ও ২৫ জুনে আয়োজিত ইনোভেশন সোকেশিং ছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি মাইলফলক। এখানে প্রদর্শিত ৩০টি উদ্ভাবনী আইডিয়ার মধ্যে ১৫ টি উদ্ভাবনী উদ্যোগ আঞ্চলিক পর্যায়ে ও কেন্দ্রীয়ভাবে সারাদেশে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা অফিসার মহোদয় মো শরীফুল ইসলাম 'আমার স্বপ্ন আমার বিদ্যালয়' আইডিয়াটির মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া অর্জন করেন। এটি হলো সকল ভালো ধারণার একটি অপূর্ব সমাহার। উন্নত বিশ্বে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার জন্য যে সকল উপাদান প্রয়োগ করা হয় তার চেয়েও অনেক সুন্দর আয়োজন 'আমার স্বপ্ন আমার বিদ্যালয়' প্রকল্পটিতে পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। শিশুর শারীরিক, মানসিক, আবেগিক,সামাজিক, আধ্যাত্নিক ও নান্দনিক বিকাশ সাধনের জন্য একটি সামগ্রিক উদ্যোগ হিসেবে এ ইনোভেশনটি স্বীকৃতি লাভ করেছে। শিশুদের জন্য চিত্তাকর্ষক বর্ণাঢ্য রঙিন বিদ্যালয়ের মানসম্মত আইডিয়া এটি। এর বাহিরটা যতটা সুন্দর ভেতরটা তার চেয়েও শিখন শেখানো কৌশলে সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে স্মাইলি, লস্ট এন্ড ফাউন্ড বক্স, সততার দোকান, সেরা মা, মহানুভবতার দেওয়াল ইত্যাদি ইনোভেটিভ আইডিয়ার ব্যাপক চর্চা। এটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সেরা পাঁচের একটি চমৎকার আইডিয়া।
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয় ছিদ্দিকুর রহমান শিশুদের মৌখিক উপস্থাপন জড়তা দূরীকরণ এবং বিদ্যালয়ের সাথে অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্লাস পার্টি উদ্ভাবন করেন।
একটি নির্ধারিত দিনে একটি নির্ধারিত শ্রেণির শিশুদের অভিভাবকদেরকে বিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। একটি নির্ধারিত শিখনকে শিশুরা মৌখিকভাবে উপস্থিত শিক্ষক - অভিভাবকদের সামনে মাইক্রোফোন ব্যবহার করে উপস্থাপন করে থাকে। এতে শিশুর জড়তা কাটে, শিখন স্থায়ী হয় এবং বিদ্যালয়ের শিখন শেখানো কার্যক্রমের প্রতি স্থানীয়দের আস্থা তৈরি হয়। এ ইনোভেশনটিও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সেরা পাঁচটির একটি। এটি ইতিমধ্যে সারাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য ইনোভেশন হলো 'কর্মবীর '। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে এ ইনোভেশনটি শুরু হয় হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার আউলিয়াবাদ কমলা গোসাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। উদ্ভাবক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ। তিনি ম্যানেজিং কমিটিতে আইডিয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করলে তৎকালীন সভাপতি হাবিবুর রহমান পলাশ এটিকে সমর্থন করেন এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য সকল শিক্ষকবৃন্দকে অনুরোধ করেন। এর কিছুদিন পর মাধবপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয় ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয় বিদ্যালয়ে কর্মবীর নিয়ে সকল শিক্ষকবৃন্দের সাথে আলোচনা করে এর কার্যকারিতা তুলে ধরলে শিক্ষকগণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং দুর্বার গতিতে ইনোভেশনটি এগিয়ে যেতে থাকে।
কর্মবীর পদ্ধতিতে সকল শিশুর শিখন ফল নিশ্চিত ও বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম জোরদার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। একটি বিশাল শ্রেণির শিশুদেরকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গ্রুপে বিভক্ত করে প্রতি গ্রুপের নেতৃত্ব একজন পাঠে এগিয়ে থাকা শিক্ষার্থীর হাতে অর্পণ করা হয়।শিক্ষক পাঠ উপস্থাপন করার পর নেতৃত্বে থাকা শিশুদের আগে মূল্যায়ন করেন এবং প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক দিয়ে গ্রুপের অন্য শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার দায়িত্ব দেন। এতে পাঠের নির্ধারিত সময়ে সকল শিশুর কার্যকর মূল্যায়ন সম্ভব হয়।
প্রতিটি গ্রুপলিডার একটি একাউন্ট বুকে নিজের নামসহ তার নেতৃত্বাধীন সদস্যদের নামে একাউন্ট খোলে। প্রতিটি ভালো কাজ ও শিখনফলের জন্য গ্রুপের সদস্যরা একটি করে মুক্তোর প্রতীক লাভ করে। পঁচিশটি মুক্তোর প্রতীক লাভ করলে একটি রৌজ প্রতীক অর্জিত হয়। বারোটা রৌজ প্রতীক অর্জিত হলে সে একটি রৌজ মুকুট লাভ করে থাকে এবং বিদ্যালয় থেকে তাকে সম্মাননা ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এ আইডিয়াটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সফল আইডিয়া হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
এ পর্যন্ত হাজার হাজার আইডিয়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইডিয়া বক্সে জমা আছে এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইনোভেশনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এগিয়েছে অনেকদূর।
ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ,
সহকারী শিক্ষক, আউলিয়াবাদ কমলা গোসাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মাধবপুর, হবিগঞ্জ।
অ্যাম্বাসেডর,
আইসিটি ফর এডুকেশন,
এটুআই প্রোগ্রাম।
সিলেট বিভাগে শ্রেষ্ঠ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন মাধবপুর উপজেলায় কর্মরত সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিশিষ্ট সাহিত্যক একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম ছন্দের জাদুকর কবি মো রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিকুল নাজিম।
প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি নবতর ধ্যানধারণার প্রবক্তা।উপকরণ তৈরিতে তিনি শিক্ষকদের নিয়ে একধাপ এগিয়ে কাজ করেছেন। ইদানিং শুরু করেছেন বাংলা গুরু নামে একটি বিশেষ উদ্ভাবন। এতে শিশুর সাবলীল বাংলা রিডিং দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে তিনি নবতর ধারণা ছড়িয়ে দিচ্ছেন শিক্ষকদের কাছে। পত্রিকা সম্পাদনা হিসেবে রয়েছে তাঁর বিশেষ খ্যাতি। দেশের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রগুলোতে তাঁর লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। লেখকও পাঠক মহলে তিনি খুব সমাদৃত ব্যাক্তি।
তাঁর একটি অনবদ্য উদ্ভাবন হলো আমার স্বপ্ন। এ উদ্ভাবনী আইডিয়াটি তিনি ২০১৭ সালে গ্রহণ করেন।
পাঠকদের কাছে তাঁর উদ্ভাবনটি উপস্থাপন করা হলো -
প্রজেক্টঃ #আমার_স্বপ্ন
উদ্ভাবনের সময়ঃ এপ্রিল -২০১৭।
উদ্ভাবকঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম,
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার,
মাধবপুর, হবিগঞ্জ।
#উদ্দেশ্যঃ
ক.সামাজিকভাবে সর্বজন স্বীকৃত পেশা ও তার দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে শিশুরা বলতে পারবে।
খ. শিক্ষার্থীরা নিজের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারবে।
গ. নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবে।
ঘ. প্রচলিত পাঠদান পদ্ধতির পরিবর্তে শিশুরা আনন্দের সাথে আকর্ষণীয় পদ্ধতিতে, আনন্দময়, খেলাচ্ছলে শিখবে।
মোট ধাপঃ ৩ টি।
#ধাপ_১
শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ডের উপর ব্যানারে (সম্ভাব্য দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট × প্রস্থ ২ ফুট) সামাজিকভাবে সর্বজন স্বীকৃত পেশাজীবীদের ছবি (যেমনঃ বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকা/ইউনিয়ন/ উপজেলার সুপরিচিত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, শিক্ষক, পুলিশ, ব্যারিস্টার, পাইলট, বিজ্ঞানী, নার্স+++ পেশাজীবীদের ছবি দিলে ভালো হবে) ও লেখা থাকবে 'আমি ডাক্তার হবোই', 'আমি ইঞ্জিনিয়ার হবোই।
#ধাপ_১_বাস্তবায়ন_কৌশলঃ
প্রতি শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ড/ মেটালিক বোর্ডের উপরে লাগানো 'আমার স্বপ্ন' ব্যানারটির প্রতিটি পেশা সম্পর্কে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক প্রতিক্লাসে একটি করে পেশা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদেরকে বলবেন (যেমনঃ ৩য় শ্রেণির বাংলা বিষয়টি পাঠদান কালে শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে 'ডাক্তার' সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরবেন)। এভাবে সবগুলো পেশা সম্পর্কে বলা শেষ হবে।
#ধাপ_২
২য় ধাপে শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদেরকে তাদের স্বপ্নের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন এবং প্রাপ্ত স্বপ্নের সাথে নামটা এড করে ঐ শিক্ষার্থীকে ডাকবেন। যেমনঃ ডাক্তার যুনাইরা, ইঞ্জিনিয়ার রাতিন, শিক্ষক রামিম........।
#ধাপ_২_বাস্তবায়ন_কৌশল
যেমনঃ ৪র্থ শ্রেণির রোলনং ১৯ মিথিলা কে সহকারী শিক্ষক প্রতিমা রাণী বিশ্বাস প্রশ্ন করলেন, 'মিথিলা, তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও?' মিথিলা উত্তর দিলো, 'আমি ডাক্তার হতে চাই।' তখন থেকে শিক্ষক প্রতিমা রাণী বিশ্বাস শিক্ষার্থী মিথিলাকে 'ডাক্তার মিথিলা' বলে সবসময় শ্রেণিতে সম্বোধন করবেন।এতে শিক্ষার্থী মিথিলা মানসিকভাবে নিজেকে ডাক্তার হিসেবে কল্পনা করতে থাকবে।
#ধাপ_৩
সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার শেষ ক্লাসে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। শ্রেণি শিক্ষকের নেতৃত্বে প্রতি সপ্তাহে স্বপ্ন ভিত্তিক দল করে একটা নির্দিষ্ট পেশা নিয়ে #অভিনয় করাবেন।
#ধাপ_৩_বাস্তবায়ন_কৌশল
যেমনঃ মাধবপুর সপ্রাবি এর ৪র্থ শ্রেণির ৬৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ডাক্তার হতে চেয়েছে ০৮ জন। এই ০৮ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শ্রেণিতে 'ডাক্তার' বিষয়ক একটা নাটিকা মঞ্চস্থ করবে। যারা ডাক্তার হতে চেয়েছে তারাই অভিনয়ে অংশগ্রহন করবে।
যেমনঃ অক্টোবর মাসের ২য় বৃহস্পতিবার ৪র্থ শ্রেণির ০৮ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ৫/১০ মিনিটের একটা নাটিকা মঞ্চায়ন করবেন। এভাবে শিক্ষার্থীদের মনে 'আমার স্বপ্ন' দীর্ঘস্থায়ীত্ব পাবে। তবে উল্লেখ থাকে যে, নাটিকায় প্রতিটি পেশার সাথে যায় এমন মানবিক দৃশ্যেরও অবতারণা করবেন। ( যেমনঃ একজন ডাক্তারের কাছে গরিব রোগী আসলে ডাক্তার মানবিক বিবেচনায় ফ্রি সেবা প্রদান করার মতো দৃশ্যও নাটিকায় থাকবে)
শিখনফলঃ
১.১. শিক্ষার্থীরা নিজেদের মনে লালিত একটা স্বপ্নের কথা বলতে পারবে।
১.২. শিক্ষার্থী নিজের স্বপ্নের ভালো দিক গুলো উপস্থাপন করতে পারবে।
১.৩. শিক্ষার্থীদের মানসপটে জীবনের লক্ষ্য চিরন্তন আসন পেতে বসবে।
১.৪. নিজেকে যেকোন জায়গায় ভয়ভীতি ও জড়তামুক্ত হয়ে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবে।
সবার সার্বিক কল্যাণ ও শুভ কামনা জানাচ্ছি।
প্রতিটি শিশু হোক সুরভিত ফুল।
পৃথিবীটা হোক ফুলের স্নিগ্ধ মালা।
ভালো লাগলে শেয়ার করুন ও নিজ বিদ্যালয়ে স্থাপন করুন।
এগিয়ে যাক প্রাথমিক শিক্ষা,
এগিয়ে যাবেই বাংলাদেশ।
আমরা করবো জয় ✌
সূত - রফিকুল নাজিম স্যারের ফেইসবুক আইডি থেকে
আরও পড়ুন:
সিলেট বিভাগে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান
আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োজিত কর্মচারীদের শাহবাগ অবরোধ
English Language Club এ সদস্য ভর্তি চলছে
আগামীকাল মাধবপুর আসছেন ড আহমদ আবদুল কাদের
বিষয়ভিত্তিক বাংলা প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে
সৌন্দর্য ও ফিটনেসে চিত্র নায়িকা রোজিনার বর্ণাঢ্য পথচলা
বিশ্বের চলচ্চিত্র অঙ্গনে সৌন্দর্যের মহারাণী চিত্র নায়িকা রোজিনা। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। কিন্তু তাকে দেখলে মনে হয়না তাঁর বয়স ত্রিশ - পয়ঁত্রিশ হবে। সদ্য ইউনিভার্সিটি পাশ করা যুবতীর মতো। সৌন্দর্য ও ফিটনেস সচেতন এই মহানায়িকাকে নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন তারকার কথা।
চিত্র নায়িকা রোজিনা ১৯৫৫ সালের ২০ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম রওশন আরা রেণু।
চিত্র নায়িকা রোজিনার রুপালী পর্দায় পদার্পণে একটি বিস্ময়কর ঘটনা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রে আসার তীব্র বাসনা ছিল তাঁর মনে। কিন্তু কোনো সুযোগ পাচ্ছিলেন না।একদিন সংসদ ভবন এলাকায় একটি ছবির শুটিং হচ্ছিল। তিনি দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। ওই সময় একটি দৃশ্যে ড্রিংকস পরিবেশনের জন্য একজন মেয়ের প্রয়োজন হলে উপস্থিতদের মধ্যে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। এভাবে রুপালী পর্দায় পদার্পণ করেন তিনি। এরপর তাঁর আগ্রহ, মেধা ও পরিশ্রমে এ পর্যন্ত এসে নিজেকে মহানায়িকা হিসেবে গৌরবময় আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
১৯৮৪ সালে ভারত - বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র 'অবিচার ' এ মিঠুন চক্রবর্তীর বিপরীতে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন নায়িকা রোজিনা ।১৯ ৮৬ সালে নায়ক নাদিমের সাথে 'হাম সে হায় জামানা'য় অভিনয় করে নিগার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন তিনি।
চিত্র নায়িকা রোজিনার উল্লেখযোগ্য ছায়াছবি হলো - তীর ভাঙা ঢেউ, মাটির মায়া, হারানো মানিক, শহর থেকে দূরে, আয়না, রাজমহল, শীষ নাগ, সোনার চেয়ে দামী, মাটির মানুষ, অভিমান, স্মৃতি তুমি বেদনা, আখেরী নিশান, হুর এ আরব,আনার কলি, মোকাবেলা, রাজনন্দিনী, রাজকন্যা, শাহী দরবার, গাঁয়ের ছেলে, সংঘর্ষ, আলাদীন আলী বাবা সিন্দাবাদ, আল্লাহ মেহেরবান ইত্যাদি।
দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে তিনি চিত্রনায়ক ওয়াসিম, আলমগীর, সোহেল রানা, জসিম, জাফর ইকবাল, উজ্জ্বল, বুলবুল আহমেদ, মাহমুদ কলির মতো খ্যাতিমান নায়কদের বিপরীতে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন। তিনি কিংবদন্তী নায়িকা শাবানা ও ববিতার সাথে অভিনয় করে প্রশংসিত হন।
ভোমরা নিশিতে ফুলের কানে কানে
প্রেমের কথা বলে সংগোপনে,
ফুল ছড়িয়ে ধরে পাপড়ির দল,
ভোমরা চুষে খায় মধুর জল।
ভোমরার ঠোঁটে পরে থাকে ফুলের ঠোঁট,
পাপড়ি নাড়িয়ে ঝাঁকিয়ে হয় মধু লুট।
পৃথিবীর যত জঞ্জাল, যত লেনাদেনা,
মাড়িয়ে আসে মনে তাক ধিন ধিন ধিনা।
কোথায় চন্দ্র, সূর্য, সাগর, মহাসাগর কে জানে?
নাই, নাই কিছু ফুল আর ভোমরা বিনে,
কে জানে কোথায় আছে ঘাসফড়িং আর প্রজাপতি,
হিসেব নিকেশ নাই কোথায় লাভ ক্ষতি।
সব ভুলে মন খোলে মধু লেনদেন,
আজ আর কে বলে - আমায় ছাড়েন?
মধু শুধু পিয়ে যায় মাতাল যাদু,
উতাল- পাতাল হাওয়ায় দোলে ফুলবধূ।
ঝড়ে নামে প্রেমজ্বালা ভোমরার হোলে,
মনখোলা মায়া উঠে ফুলের কোলে।
চোখে জ্বলা আগুন রাঙায় চরম ফাগুন,
এই প্রেম সেই লাগে, দারুণ! দারুণ!
মরমী শিল্পী ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ এর নতুন গান ‘ আমি কার ভরসায় দেব পারি পুলসেরাতের পুল’তার ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত হয়েছে। https://fb.watch/sAfWUD2KyE/ এ লিংকে প্রবেশ করলে গানটি দেখতে পাবেন।
আরও পড়ুন:
সিলেট বিভাগে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান
আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োজিত কর্মচারীদের শাহবাগ অবরোধ
English Language Club এ সদস্য ভর্তি চলছে
আগামীকাল মাধবপুর আসছেন ড আহমদ আবদুল কাদের
বিষয়ভিত্তিক বাংলা প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে









Comments
Post a Comment